বিলেতে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটির জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ছিল গর্ব, আবেগ ও অনুপ্রেরণায় ভরপুর এক স্মরণীয় মুহূর্ত। বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় কণ্ঠস্বর, রাজপথের নির্ভীক সহযোদ্ধা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল কর্মী আনসার আহমেদ উল্লা এর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
সিটি অব লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী গিল্ডহল ওয়েস্ট উইংয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জুড়ে ছিল সম্মান, ভালোবাসা এবং আনসার আহমেদ উল্লার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। বক্তারা বলেন, তার এই একাডেমিক অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি প্রবাসী বাঙালি কমিউনিটির চিন্তাশীল চর্চা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং প্রগতিশীল আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রতীক।
বক্তব্যে তারা আরও উল্লেখ করেন, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বর্ণবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার এই গবেষণালব্ধ অর্জন আন্দোলনকে দিয়েছে আরও দৃঢ় বৌদ্ধিক ভিত্তি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সহযোদ্ধা, সহকর্মী, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, আনসার আহমেদ উল্লা প্রমাণ করেছেন। জ্ঞান ও সংগ্রাম কখনো আলাদা পথ নয়। গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গবেষণায় নিষ্ঠা, সমাজচিন্তায় গভীরতা এবং মানবিক মূল্যবোধে অবিচলতা—এই তিনের সমন্বয়ই তাকে করেছে আলাদা ও অনন্য।
নিজের বক্তব্যে আনসার আহমেদ উল্লা এই সম্মানকে ব্যক্তিগত গণ্ডির বাইরে পুরো কমিউনিটির অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই ভালোবাসা ও স্বীকৃতি তাকে ভবিষ্যতেও সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পক্ষে আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাওয়ার প্রেরণা জোগাবে।
করতালি, ফুলেল শুভেচ্ছা ও আবেগঘন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই নাগরিক সংবর্ধনা। প্রবাসে থেকেও শেকড়, ইতিহাস ও মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতি অবিচল থাকার যে দৃষ্টান্ত আনসার আহমেদ উল্লা স্থাপন করেছেন।এই সংবর্ধনা ছিল তারই সম্মিলিত স্বীকৃতি।
প্রবীণ কমিউনিটি নেতা শাহগীর বখত ফারুক এর সভাপতিত্বে এবং কাউন্সিলর অজন্তা দেব রায় এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,কাউন্সিলম্যান শাহনান বখত।