ভারতের আহ্বানকে তীব্রভাবে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, তা নিয়ে আমাদের প্রতিবেশীদের উপদেশের প্রয়োজন নেই।” তিনি ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেওয়া ‘নসিহত’কে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এর আগে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১৪ ও ১৭ ডিসেম্বরের বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছিল। বাংলাদেশের তরফ থেকে এই আহ্বানকে দেশীয় অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অতীত বিতর্কিত নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশে ফেরানোতে তাদের অনীহা এবং আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রহ তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনে ভারতের সরাসরি ও পরোক্ষ ভূমিকা এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে।
তৌহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করব যেখানে মানুষ তাদের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারবে এবং যাদের ভোট দেবে, তারা নির্বাচিত হবেন—যেটা গত ১৫ বছরে ঘটেনি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আমেনা মহসীন উল্লেখ করেন, “এ ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক, কারণ অতীতে ভারতের হস্তক্ষেপ নিরপেক্ষ ছিল না।” অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, ভারতের লক্ষ্য রাজনৈতিক মাইলস্টোন হিসেবে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা, যা তাদের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, ভারতের নির্বাচন বিষয়ক বারবার মন্তব্যের পেছনে শুধু নির্বাচনী স্বার্থ নয়, বাংলাদেশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডেও হস্তক্ষেপের প্রবণতা কাজ করছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের অযাচিত হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক দলগুলোর ‘উগ্রবাদী’ আখ্যায়ন এবং কূটনৈতিক উদাসীনতা এই প্রতিক্রিয়ার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।