ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে শেরে বাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম আগারগাঁওয়ের বনলতা আবাসিক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব আলামত উদ্ধার করা হয়। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট ও ভুয়া নম্বর প্লেট পরবর্তীতে ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিটিটিসি সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেট পরিবর্তনের তথ্য উদঘাটন করা হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ির নিচতলার পার্কিং থেকে মোটরসাইকেল ও হেলমেট উদ্ধার করা হয়। ভুয়া নম্বর প্লেটটি উদ্ধার করা হয় কাছাকাছি একটি ম্যানহোলের ভেতর থেকে।
তদন্তে জানা গেছে, হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির মালিকানা একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটির মালিক ছিলেন। এরপর পর্যায়ক্রমে শহিদুল, রাসেল, অনলাইন মার্কেটপ্লেস, ওবায়দুল ইসলাম, আনারুল, পুনরায় ওবায়দুল এবং সর্বশেষ শুভ নামে একজনের কাছে এটি বিক্রি হয়। মোট আটজনের হাতবদলের পর শুটার ফয়সালের সহযোগী মো. কবিরের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মাইনুদ্দিন ইসলামের নামে মোটরসাইকেলটি কেনা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পল্টন এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে ১৪ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে এক জরুরি সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হাদিকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা, চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক কল কনফারেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় এবং সেখানে পৌঁছানোর অল্প সময়ের মধ্যেই সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পেছনের পরিকল্পনাকারী, অর্থায়নকারী ও সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতগুলোর সূত্র ধরে মামলার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।