সাম্প্রতিক প্রথম আলো ও কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেডের একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগকে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অধিকাংশ উত্তরদাতা কোনো না কোনোভাবে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রথম আলোর উদ্যোগে কিমেকারস কনসাল্টিং লিমিটেড পরিচালিত এই জরিপে উঠে আসে ভোটারদের নানা ধরনের প্রত্যাশা, শর্ত ও শঙ্কা।
জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৪২ জনের মধ্যে প্রায় ৬৯.২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, শর্তহীন বা শর্তযুক্ত যেকোনোভাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যেতে পারে। তাঁদের মধ্যে ২৭.৮ শতাংশ বিনা শর্তে অংশগ্রহণের পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে ২৬ শতাংশ মনে করেন, শাস্তি বা কাঠামোগত সংস্কারের পর দলটিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। আরও ১৪.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইলে অংশগ্রহণের সুযোগ মিলতে পারে।
তবে সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত থাকলেও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ফলাফল সম্পর্কে আশাবাদী নন বেশির ভাগ মানুষ। জরিপে ৬৫.৯ শতাংশ মনে করেন, আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেতে পারে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামীকে এগিয়ে রেখেছেন ২৫.৯ শতাংশ উত্তরদাতা, আর আওয়ামী লীগের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ৭.২ শতাংশ।
জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২১–২৮ অক্টোবর সময়ে দেশের পাঁচটি নগর ও পাঁচটি গ্রাম/আধা-শহর এলাকায়। অংশগ্রহণকারীরা নানা পেশা, আয় ও সামাজিক শ্রেণির মানুষ ছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় দল ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ নির্দেশ দেয়।
এ ছাড়া ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলায় শেখ হাসিনার মোট ২৬ বছর কারাদণ্ড এবং তাঁর দুই সন্তানের ৫ বছর করে কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পরপরই তিনি ভারতে চলে যান, এবং দলের বহু নেতা বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।