বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটেছে এবং তাঁকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান। তিনি বলেন, রোববার রাত থেকে খালেদা জিয়ার অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে পড়েছে এবং তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর লড়াই করছেন।
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে আহমেদ আজম খান বলেন, “ম্যাডাম খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে চলে গেছেন। এখনো এমন অবস্থায় আসেননি যে কিছু আশ্বস্ত করার মতো বলা যায়।” তিনি জানান, খালেদা জিয়া বর্তমানে ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্টের ওপর নির্ভরশীল।
বিএনপি নেতার ভাষায়, “সিসিইউ, আইসিইউ—সব ধাপ অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে। পুরো চিকিৎসক দল চেষ্টা চালাচ্ছেন, সারা জাতির কাছে দোয়া চাওয়া ছাড়া এখন আর কিছু বলার নেই।”
চিকিৎসায় যুক্ত আছেন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। সর্বশেষ চীনের চিকিৎসকরাও এই চিকিৎসা দলে যোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
২৩ নভেম্বর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। লিভারজনিত জটিলতা, কিডনির কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় তাঁর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
চিকিৎসক ও পরিবার সূত্র বলছে, তাঁকে স্থিতিশীল রাখতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন।