রাজধানীর মতিঝিলে অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখা ও পূবালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখায় শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা তিনটি লকার পুনঃতদন্ত করে মোট ৮৩২ ভরি সোনা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিনটি লকারের একটি থেকে শুধু একটি খালি পাটের ব্যাগ পাওয়া গেলেও বাকি দুই লকারে সোনার নৌকা, হরিণ ও বিভিন্ন স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে।
বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মহাপরিচালক আক্তার হোসেন জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দুদক, বিচার বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার লকারগুলো খোলা হয়। পরে পাওয়া মালামালের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার জিম্মায় রাখা হয়।
কোন লকারে কী পাওয়া গেছে:
দুদক জানায়, পূবালী ব্যাংকের শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত লকারে (নং ১২৮) পাওয়া গেছে কেবল একটি খালি পাটের ব্যাগ। অগ্রণী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখায় শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদের যৌথ লকারে প্রায় ৪ হাজার ৯২৩.৬০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।
একই শাখায় শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানার যৌথ লকারে পাওয়া যায় প্রায় ৪ হাজার ৭৮৩.৫৬ গ্রাম স্বর্ণালংকার। সব মিলিয়ে উদ্ধার সোনার পরিমাণ দাঁড়ায় ৯ কেজি ৭০৭ গ্রাম, অর্থাৎ ৮৩২ ভরি।
কার নামে এসব সোনা?
লকারে থাকা প্রতিটি স্বর্ণালংকারের সঙ্গে পৃথক চিরকুট ছিল, যেখানে মালিকের নাম উল্লেখ রয়েছে। দুদকের দাবি—ঐ চিরকুটগুলোতে শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা সিদ্দিকী ও ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের নাম পাওয়া গেছে।
মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, কার কাছে কত পরিমাণ সোনা জমা আছে—তা নিশ্চিত করতে যাচাই–বাছাই চলবে। প্রতিটি গয়না চিহ্নিত করে মালিক নির্ধারণ করা হবে।
কেন লকারগুলো খোলা হলো
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে শেখ হাসিনা এই লকারগুলোর তথ্য দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুদক আদালতে পুনরায় লকার খোলার আবেদন করলে আদালত অনুমতি দেয়।
এরপর মঙ্গলবার ছয় সদস্যের তদন্তকারী দল লকারগুলো খোলে এবং সব মালামাল ইনভেন্টরি আকারে নথিবদ্ধ করে।