বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জটিল আকার ধারণ করেছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার বুকে সংক্রমণ ছাড়াও হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।
রোববার রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মেডিকেল বোর্ড গঠনের পর তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা জানান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্তত পরবর্তী ১২ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, কারণ সংক্রমণ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা তার সামগ্রিক অবস্থাকে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।
ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ঠিক কতদিন হাসপাতালে থাকতে হবে তা এখন বলা যাচ্ছে না। সবকিছু নির্ভর করছে তার শরীর চিকিৎসায় কীভাবে সাড়া দেয় তার ওপর। তিনি বলেন, “চেয়ারপারসন দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত আরোগ্য দান করেন।”
রোববার সন্ধ্যায় গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয় খালেদা জিয়াকে। নিয়মিত পরীক্ষা ও বর্তমান জটিলতা মূল্যায়নের জন্যই তাকে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। এর আগেও গত ১৫ অক্টোবর তিনি স্বল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক ব্যস্ততার মধ্যেও গত শুক্রবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি ও ফুসফুসের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগতে হওয়ায় তার স্বাস্থ্যযত্ন এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর পর্যায়ের।
এ বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া এবং দীর্ঘ ১১৭ দিন সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর মে মাসে দেশে ফেরেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশে ফেরার পরও নিয়মিত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে পরীক্ষানিরীক্ষার জন্য।
চিকিৎসকরা বলছেন, আগামী কয়েক ঘণ্টা তার শারীরিক পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।