রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। প্রথমিক রেকর্ড অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল প্রায় ৪.৩। উৎসস্থল ছিল নরসিংদী থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার পশ্চিমে — ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এদিকে ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৩.৭, যা ভূমিকম্প পরিমাপের ক্ষেত্রে কিছু ভেদমান প্রকাশ করে।
এর আগেও আজ সকালে নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছিল — রিখটার স্কেলে ৩.৩ মাত্রায়।
গত শুক্রবার সকালে ঘন ঘন অনুভূত এক বড় ভূমিকম্প দেশের কয়েক অঞ্চলে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী ছিল। রিখটার স্কেলে সেটির মাত্রা ছিল ৫.৭ এবং উৎসস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী এলাকায়। এই কম্পন বাংলাদেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ভারতেও অনুভূত হয়েছিল। তীব্র দোলা ও ধ্বংসের কারণে ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকায় আহত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী—এই ভূমিকম্পে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মাগুরা জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঢাকায় চারজন নিহত ও ৫৯ জন আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে একজন নিহত হয়েছেন ও ১৮ জন আহত হয়েছেন। নরসিংদীতে পাঁচজন নিহত ও ১১০ জন আহত হয়েছেন। গাজীপুরে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫২ জন এবং মাগুরায় ২২ জন আহত হয়েছেন। মোট হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত দশজনের মৃত্যু এবং চারশ একষট্টি জনের বেশি আহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর একাধিক পরাঘাত বা ফলো-আপ কম্পন সাধারণ ঘটনা — তাই এই ধরনের ভয়াবহতা পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেছে মনে করলে চলবেনা। পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য থাকলেও সতর্কতা অবলম্বন অতি জরুরি।