রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার সকালে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর দেশের হাসপাতালগুলোতে আহত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন এবং ঢাকার পাশাপাশি গাজীপুর, নরসিংদীসহ আশপাশের জেলাগুলোর জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. মঈনুল আহসান বলেছেন, দেশের সব সরকারি হাসপাতালকে আগাম সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী ও জনবল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভূমিকম্পের মুহূর্তে আতঙ্কে ভবন থেকে দৌড়ে নামতে গিয়ে, সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে এবং ভবন থেকে লাফিয়ে নামতে গিয়ে অধিকাংশ মানুষ আহত হয়েছেন। অনেক স্থানে ভিড়ের চাপে হুড়োহুড়িতেও আঘাত পাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ভিড়:
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভূমিকম্পে নিহত ৩ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে। তাঁদের একজন—রাফিউল ইসলাম—প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই হাসপাতালে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন আরও ১০ জন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেও পরিস্থিতি ক্রমেই চাপ বাড়াচ্ছে। এখানকার চিকিৎসকেরা জানান, ১৮ জন আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও রোগী আসতে পারে।
ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি চাপ গাজীপুরে:
গাজীপুরের তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৭২ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন—এর মধ্যে ৪৯ জন ভর্তি, আর ২৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন।
একই জেলার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৩ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ১৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
নরসিংদীতে আহত ৪৫, তিনজন গুরুতর:
নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত হওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা সংকটাপন্ন, যাদের ঢামেকে পাঠানো হয়েছে।