তাইজুল ইসলামের বল ব্যারি ম্যাকার্থির ব্যাটের হালকা ছোঁয়া পেয়ে যায় লিটন দাসের গ্লাভসে। আত্মবিশ্বাসী লিটন সঙ্গে সঙ্গে আউটের আবেদন করলেও নাজমুল হোসেন শান্ত শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন। বড় পর্দায় ভেসে ওঠা লাল ‘আউট’ লেখায় মিলল স্বস্তি। সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনে আয়ারল্যান্ডকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫৪ রানে থামিয়ে ইনিংস ও ৪৭ রানের বড় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫৮৭ রানের জবাবে আয়ারল্যান্ড করতে পারে ২৮৬—সেখান থেকেই ৩০১ রানের লিডে ম্যাচের দিক নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। তৃতীয় দিন বিকেলে ৫ উইকেট হারানো আয়ারল্যান্ডকে অলআউট করতে আজও খুব বেশি দেরি হওয়ার কথা ছিল না। যদিও শেষ পর্যন্ত দেড় সেশন সময় লেগে গেছে।
দিনের শুরুতেই তাইজুলের এক বল আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউতে তা বদলে যায়। মিরাজের বলে স্লিপে ক্যাচ হাতছাড়া করে আঘাতও পান শান্ত, ফলে জয়ের অপেক্ষা কিছুটা দীর্ঘ হয়। বারবার রিভিউ নিয়ে টিকে ছিলেন আইরিশ ব্যাটাররা—ম্যাকব্রাইন ও বলবার্নি দুজনই রিভিউতে রক্ষা পান।
ম্যাকব্রাইনই মূলত আয়ারল্যান্ডকে লড়াইয়ে রাখেন। হ্যামফ্রিসের সঙ্গে তাঁর ৩১ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল, এরপর নাহিদ রানা ৫২ রান করা ম্যাকব্রাইনকে ফেরালে বাংলাদেশের জয় তখন অনেকটাই নিশ্চিত। কিন্তু ম্যাকার্থি–নেইল জুটি আরও ৫৪ রান যোগ করে আউট হওয়ার আগে লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত তাইজুল ও হাসান মুরাদের জোড়া আক্রমণে হার মানে আয়ারল্যান্ড। এই দুজন মিলে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট দখল করেন।
টেস্টজুড়ে বাংলাদেশ ছিল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। ব্যাটসম্যানদের বড় রানের দিন—মাহমুদুল হাসানের দুর্দান্ত ১৭১, শান্তর আরও একটি সেঞ্চুরি, শীর্ষ চার ব্যাটারেরই ৮০–এর ওপরে রান—দ্বিতীয় টেস্টের আগে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে দলকে। অভিষেক টেস্টেই আলো ছড়িয়েছেন বামহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ। সিরিজে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় টেস্ট মাঠে গড়াবে ১৯ নভেম্বর, মিরপুরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আয়ারল্যান্ড: ২৮৬ ও ২৫৪ (ম্যাকব্রাইন ৫২, স্টার্লিং ৪৩, বলবার্নি ৩৮; মুরাদ ৪/৬০, তাইজুল ৩/৮৪)
বাংলাদেশ: ৫৮৭/৮ ডিক্লেয়ার
ফল: বাংলাদেশ জয়ী—ইনিংস ও ৪৭ রানে
ম্যাচসেরা: মাহমুদুল হাসান
সিরিজ: বাংলাদেশ ১–০