গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ১৭ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আদালতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করেছেন।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জমা পড়ে। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ মে প্রতিবেদন দাখিল করে সংস্থাটি।
এর ভিত্তিতে ১ জুন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে প্রসিকিউশন। ওই দিনই ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেয় এবং পরবর্তীতে ১০ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী খোকন চন্দ্র বর্মণের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৪ আগস্ট মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। মোট ৮১ জন সাক্ষীকে তালিকাভুক্ত করা হলেও ৫৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়, যার মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা এবং আসামি আবদুল্লাহ আল-মামুনও রয়েছেন। মামলার বিচার চলাকালে আল-মামুন কারাগারে থাকলেও অন্য দুই আসামি পলাতক।
প্রসিকিউশন দাখিল করা অভিযোগপত্রের পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৩৫; এর সঙ্গে সংযুক্ত প্রমাণাদি ও নথির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠা।
পাঁচটি অভিযোগে বিচার
তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন, ষড়যন্ত্র, উসকানি এবং ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়।
১. গণভবনের বক্তব্যে উসকানি:
২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ। ওই বক্তব্যের পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় কর্মীরা সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যাতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়।
২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ:
অভিযোগ অনুযায়ী, শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। কামাল ও আল-মামুন সেই নির্দেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে তৎপর করেন।
৩. রংপুরে ছাত্র আবু সাঈদ হত্যা:
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ ও পরিকল্পনার দায়ে তিন আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
৪. চানখাঁরপুলে হত্যাকাণ্ড:
৫ আগস্ট ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয়জন নিহত হন। ওই ঘটনাতেও তিনজন আসামির সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
৫. আশুলিয়ায় হত্যা ও লাশ পোড়ানো:
একই দিনে আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়; পাঁচজনের লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত একজনকেও জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এ ঘটনাতেও তিনজন আসামির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল।