আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম আসামি ও রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আজ বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকাল ৯টার পর কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করবেন। মামলার অন্য দুই আসামি, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এখনো পলাতক।
কারাগারে থাকা চৌধুরী মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং তার শাস্তি নির্ধারণের বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন প্রসিকিউশন।
গত ২৩ অক্টোবর শেখ হাসিনার মামলায় সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। এর আগে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা ও ২৮ কার্যদিবসের শুনানি শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আজ রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ৩ আগস্ট ২০২৪ সালে। মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের ৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে—এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।
মামলার মোট অভিযোগপত্র ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার, যেখানে তথ্যসূত্র ২,০১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও প্রমাণাদি ৪,০০৫ পৃষ্ঠা, এবং শহীদদের তালিকা ২,৭২৪ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। ৮৪ জন সাক্ষীকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।