চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ ঘোষণা করেছেন, নগরীতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বা সশস্ত্র অপরাধী দেখা মাত্রই পুলিশের কাছে ব্রাশফায়ার (তৎক্ষণাৎ আড়াই-তিন রাউন্ড ফায়ার) পরিচালনার অধিকার রয়েছে। তিনি সরাসরি টহলদার ও থানা পুলিশকে এ ধরনের তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সিএমপি কমিশনার মঙ্গলবার দুপুরে বেতার বার্তা মাধ্যমে সব ইউনিটকে মৌখিকভাবে এ নির্দেশ দেন এবং রাতে সাংবাদিকদের কাছে তা নিশ্চিত করেন। তাঁর ভাষ্য, চট্টগ্রামকে আবারও ‘অন্ধকার যুগ’ বা জাহেলিয়াতের মতো পরিস্থিতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না; সন্ত্রাসী উপদল যদি শহরে বিভীষিকা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিরোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে—প্রয়োজনে বলপ্রয়োগও করা হবে।
কমিশনারারি বেতার বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে টহল বাহিনী শটগান বা চায়না রাইফেল ব্যবহার করবেন না; অপরদিকে এসএমজি (সাব-মেশিনগান) ব্রাশফায়ার মোডে রাখা থাকবে। একই সঙ্গে টহল টিমে শিশা শটগান, দুটি গ্যাসগান এবং টিম নেতৃত্বে নাইন মিলিমিটার পিস্তল বহন আয়োজনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়িয়ে সাতটি থেকে তেরোটি করা হবে—এনিয়ে স্থানীয় নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
কমিশনার তাঁর বার্তায় একদিকে পুলিশের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার (দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারার আলোকে) মনে করিয়ে দিয়েছেন এবং অন্যদিকে বলিয়েছেন, সকল কার্যক্রমের দায়িত্ব কমিশনার অফিসই নিবে।
কঠোর এই নির্দেশনার পেছনে শহরে সন্ত্রাসী হানার সাম্প্রতিক ঘটনা অবস্থান করছে। পুলিশের বর্ণনায়, গত ৫ নভেম্বর বায়োজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপির এক প্রার্থীর জনসংযোগ সভায় সন্ত্রাসী হামলায় একটি সন্ত্রাসী নিহত ও প্রার্থীসহ কয়েকজন আহত হন; পরের দিন একই অঞ্চলে আরও এক জন গুলিবিদ্ধ হন। এসব ঘটনার পর জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—এই প্রেক্ষাপটে কমিশনার মঙ্গলবারের নির্দেশ দেন বলে নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, আগেও এ ধরনের নির্দেশিকা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল; গত আগস্টে একটি বেতার বার্তা ‘ফাঁস’ হওয়ার মামলায় একজন পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই সিএমপি’র বার্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে সতর্কতা বৃদ্ধি পেয়েছে।