পাইলটের উড্ডয়নজনিত ভুলেই রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল—সরকারি তদন্ত প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির সদস্যরা। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, “তদন্তে দেখা গেছে, উড্ডয়নের সময় পাইলটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশিক্ষণের সময় পরিস্থিতি তাঁর আয়ত্তের বাইরে চলে যায়।”

তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, দায় নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে মোট ৩৩টি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো— ঢাকা শহরের বাইরে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম স্থানান্তর করা।
কমিটি আরও জানিয়েছে, বিমানবন্দরের আশপাশে হাসপাতাল, স্কুল, গুদাম বা ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো স্থাপনা নির্মাণ না করতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, তদন্তে ১৫০ জনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে বিশেষজ্ঞ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারও ছিলেন। তারা ১৬৮টি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
গত ২১ জুলাই উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি–৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৬ জনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ আহত হন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, মাইলস্টোন ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড অনুযায়ী নির্মিত ছিল না। ভবনটিতে ন্যূনতম তিনটি সিঁড়ির বদলে মাত্র একটি সিঁড়ি ছিল, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।