জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে ১৯৯১ সালে নির্বাচনী ময়দানে নামেন খালেদা জিয়া। তখন থেকে এখন পর্যন্ত তিনি যে আসনগুলোয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কোনো আসনেই হারেননি। এবারও ব্যতিক্রম নয়—আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন। এর মধ্যে দুটি পুরোনো আসন, আর একটি তাঁর জন্মস্থান দিনাজপুর।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আজ সোমবার বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করেছে। তালিকায় দেখা যায়, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে ফেনী–১, বগুড়া–৭ ও দিনাজপুর–৩ আসন।
দীর্ঘ সময় ধরে কারাবন্দী থাকার পর গত বছর জুলাইয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুক্তি পান খালেদা জিয়া। অসুস্থতার কারণে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে সংশয় থাকলেও আজকের তালিকা প্রকাশের পর সেই জল্পনার অবসান ঘটেছে।
ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলা নিয়ে গঠিত ফেনী–১ আসনে খালেদা জিয়া অতীতের প্রতিটি নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জিতেছেন। তবে ২০০১ সালে একাধিক আসনে বিজয়ী হওয়ার পর এই আসন ছেড়ে দেন তিনি। পরবর্তী উপনির্বাচনে তাঁর ভাই সাঈদ এস্কেন্দার (বর্তমানে প্রয়াত) বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যদিও তাঁর পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা দিনাজপুরে, কিন্তু ফেনীতেই রয়েছে তাঁদের পৈতৃক নিবাস।
দিনাজপুর সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর–৩ আসনটি এবার খালেদা জিয়ার জন্য নতুন। এই আসনে তিনি আগে কখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। তবে তাঁর বোন খুরশীদ জাহান হক (প্রয়াত) ১৯৯৬ সালের দুটি নির্বাচনে এখান থেকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন।
অন্যদিকে বগুড়া–৭ আসনটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নিজ এলাকা গাবতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে খালেদা জিয়া এখান থেকে প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি আসনটি ছাড়ার পর স্থানীয় নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু তিনবার ও কেন্দ্রীয় নেতা মওদুদ আহমদ একবার উপনির্বাচনে জয় পান।
এবার বগুড়া–৬ আসনে প্রার্থী হচ্ছেন খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এটাই তাঁর প্রথম সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন—বগুড়া, ফেনী, ঢাকা–৫, ঢাকা–৯ ও চট্টগ্রাম–৮—এবং প্রতিটিতেই জয়ী হন। সে সময় বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনিই দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ফেনী ও বগুড়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীপুর–২ ও চট্টগ্রাম–১ আসনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনে বগুড়ার দুটি ও ফেনীর একটি আসনের পাশাপাশি খুলনা–২ এবং লক্ষ্মীপুর–২ আসন থেকেও বিজয় পান।
২০০৮ সালে নির্বাচনী আইন সংশোধনের পর সর্বাধিক তিনটি আসনে প্রার্থী হওয়ার বিধান করা হয়। সে অনুযায়ী খালেদা জিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বগুড়া–৬, বগুড়া–৭ ও ফেনী–১ আসনে।
২০১৪ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করলেও ২০১৮ সালের ভোটে এই তিন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত থাকায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। প্রায় এক যুগ পর আবারও তিনি জাতীয় নির্বাচনের ময়দানে ফিরছেন।