কেবল বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে ফিরব, বলেছেন আওয়ামী লীগ চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–কে দেয়া আলাদা সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন। গত বছর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার।
বর্তমানে শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পরিচালনা করছে, যারা আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, বরং আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। “কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য তাদের ভোট থেকে বঞ্চিত করা যায় না,” বলেন তিনি। হাসিনা আরও বলেন, “আমরা আমাদের সমর্থকদের অন্য কোনো দলকে ভোট দিতে বলছি না। আমরা আশা করি, সাধারণ বিবেক ফিরে আসবে এবং আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।”
রয়টার্স জানায়, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটির বেশি। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই দেশের প্রধান দুটি দল। ইউনূস সরকারের অধীনে মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয় এবং দলটির সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
নিজের দেশে ফেরার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেন, “আমি দেশে ফিরব তখনই, যখন সরকার বৈধ হবে, সংবিধান রক্ষা পাবে এবং আইন-শৃঙ্খলা ঠিক থাকবে।” তিনি জানান, আপাতত তার দেশে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–কে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা গত বছরের ছাত্র আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমি আমাদের প্রতিটি সন্তান, ভাই, বোন ও বন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি। কিন্তু আমি কখনো পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুল।”
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হন, যা স্বাধীনতার পর দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত। তবে শেখ হাসিনা এই সংখ্যাটিকে “অতিরঞ্জিত” বলে দাবি করেন। তার ভাষায়, “সরকারের পদক্ষেপ ছিল প্রাণহানি রোধে সৎ উদ্দেশ্যে নেওয়া ব্যবস্থা, কারণ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।”
নিজের দেশত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দেশ ছেড়েছিলাম বাধ্য হয়ে। দেশে থাকলে শুধু আমার নয়, আমার আশপাশের মানুষের জীবনও বিপন্ন হতো।”
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারে থাকুক বা বিরোধীদলে, ভবিষ্যতে দেশের রাজনীতিতে ভূমিকা রাখবে। আমি চাই, মানুষ আমাকে সেই নেতা হিসেবে মনে রাখুক, যিনি সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং লাখ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেছিলেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের অর্জনগুলো এখন ঝুঁকির মুখে। শুধুমাত্র মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই বাংলাদেশকে আবার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারবে।”