রাগাদ লোই মন্না। ১৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী। যুদ্ধ, ক্ষুধা, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের অভাব এবং চার বোনের দেখভালের দায়িত্ব পালন সত্ত্বেও তার তাওজিহি পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করেছে। তার এই সফলতা গাজার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আলোকবর্তিকা।
গাজার শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গাজার ৩০৭টি স্কুলের মধ্যে ২৯৩টি ধ্বংস বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা শিক্ষার জন্য একটি বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ফলে প্রায় ৬১,০০০ মানুষ নিহত এবং ৩১,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের মধ্যে ১,০০০ এরও বেশি নিহত এবং ৫,০০০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া, ২২৮ জন শিক্ষক ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, রাগাদের মতো শিক্ষার্থীদের সফলতা সত্যিই প্রশংসনীয়।

গাজার শিক্ষাব্যবস্থার এই সংকটের মধ্যে, রাগাদের মতো শিক্ষার্থীদের সফলতা শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি গাজার শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে, শিক্ষার আলো কখনো নিভে যায় না, বরং তা নতুন করে জ্বলে ওঠে।
রাগাদের মতো শিক্ষার্থীদের সফলতা আমাদের শেখায় যে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও অধ্যবসায়, সাহস এবং ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব। গাজার শিক্ষাব্যবস্থার পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ও সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।
রাগাদের এই সফলতা শুধু গাজার শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, এটি বিশ্বের সব শিক্ষার্থীর জন্য একটি অনুপ্রেরণা। শিক্ষা কখনো থেমে থাকে না, তা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এগিয়ে চলে।