‘সোনার কেল্লা’ শুনলেই মনে পড়ে গল্পের জাদু। কিন্তু দুবাই এবার সেই কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে—তৈরি করেছে পুরোপুরি সোনায় গড়া এক পোশাক। এতে এক ফোঁটা সুতো নেই, কাপড়ের বদলে ব্যবহার করা হয়েছে খাঁটি ২২ ক্যারাট সোনা, যার ওজন ১০ কেজিরও বেশি।
এই বিলাসবহুল পোশাকটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দুবাই ড্রেস’, যা নির্মাণ করেছে স্থানীয় স্বর্ণকার প্রতিষ্ঠান আল রামাইজান। তাদের দাবি, পোশাকটি তৈরি করতে প্রায় ৯৮০ ঘণ্টা সময় লেগেছে, এবং এর মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ১০.০৮ কেজি। সম্প্রতি এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বিশ্বের সবচেয়ে ভারী সোনার পোশাক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
‘দুবাই ড্রেস’-এর নকশা চারটি অংশে বিভক্ত—একটি মুকুট, একটি লম্বা নেকলেস, এক জোড়া দুল এবং কোমরে বাঁধার সোনার বেল্ট বা ‘হিয়ার’। সবচেয়ে ভারী অংশটি হলো নেকলেস, যার ওজন ৮.৮ কেজির বেশি। মুকুটের ওজন প্রায় ৪০০ গ্রাম, দুলের ১৩৪ গ্রাম, আর বেল্টের ৭৩৮ গ্রাম।
পুরো পোশাকজুড়ে আছে সূক্ষ্ম জালি কারুকাজ, হিরে, পান্না, রুবি ও ফিরোজা রঙের মিনাকারি ডিজাইন। প্রতিটি খুঁটিনাটি হাতে তৈরি, যা পোশাকটিকে আরও অনন্য করেছে।
বিশ্লেষকদের হিসাবে, ২২ ক্যারাট সোনার বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী ১০ কেজি সোনার দামই প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি (প্রায় ৪৬ লাখ দিরহাম)। তবে এটি দুবাইয়ের বাজারমূল্য; ভারতে আমদানি করলে কর–শুল্ক যোগে দাম আরও অনেক বেড়ে যাবে।
শিল্পীরা জানিয়েছেন, এই পোশাক শুধু প্রদর্শনযোগ্য নয়, এটি পরিধানও করা সম্ভব—তবে নিশ্চয়ই এটি সাধারণ কোনো অনুষ্ঠানের জন্য নয়, বরং দুবাইয়ের ঐশ্বর্যের প্রতীক হিসেবেই তৈরি হয়েছে।