ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের বহনকারী নৌকাডুবিতে এক সন্তানসম্ভবা নারীসহ অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ১১ জনের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে, যারা একা নৌকায় উঠেছিলেন—তাদের সঙ্গে কোনো অভিভাবক ছিলেন না। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ইতালির কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর নিকোলা দেল’আর্চিপ্রেতে।
শুক্রবার ইতালির ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ লাম্পেদুসার উপকূলে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়ার পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকাটিতে ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ইতালির কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে, আর উদ্ধার করা মরদেহটি ছিল এক সন্তানসম্ভবা নারীর। নিখোঁজদের এখনো সন্ধান মেলেনি।
ইউনিসেফ কর্মকর্তার মতে, সমুদ্রে দুই দিন ভাসার পর নৌকাটি ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের সঙ্গে নিহত নারীর মরদেহও লাম্পেদুসা দ্বীপে আনা হয়েছে।
এদিকে রোববার ভূমধ্যসাগরে ভাসমান আরেকটি নৌকা থেকে ৮৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন নারী ও পাঁচজন শিশু ছিলেন। তারা পাকিস্তান, ইরিত্রিয়া ও সোমালিয়ার নাগরিক বলে জানা গেছে।
ইতালির কোস্টগার্ড জানায়, লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে ১৬ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটির অবস্থান শনাক্ত করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি নজরদারি বিমান। এরপর দুটি টহল জাহাজ পাঠিয়ে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার অভিযানে নৌকার নিচে দুইজন পুরুষের মরদেহ পাওয়া যায় এবং কয়েকজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
বার্তা সংস্থা এজিআইয়ের তথ্যমতে, গুরুতর অসুস্থ ১৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মধ্যে তিনজনকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস দিতে হচ্ছে। শ্বাসনালীতে পেট্রোল ঢুকে যাওয়ায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির বার্তা সংস্থা আনসা।
জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে ৩২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। ইউনিসেফের হিসাবে, মৃতদের প্রতি পাঁচজনের একজন শিশু। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় রুটে কমপক্ষে ৯১৬ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।