অধরা রয়ে গেল স্বপ্ন—ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে পাড়ি দেওয়া আট রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফিরলেন লাশ হয়ে। গত ৮ অক্টোবর ওমানের দুকুম অঞ্চলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের সাতজনসহ মোট আট প্রবাসী। দশ দিন পর, শনিবার রাতে (১৯ অক্টোবর), বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে তাঁদের মরদেহ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের সময় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো পরিবেশ। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। পরে একে একে কফিনগুলো তোলা হয় অ্যাম্বুলেন্সে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নিহত সাতজনই সন্দ্বীপের অধিবাসী—তাঁদের মধ্যে পাঁচজন সারিকাইত ইউনিয়নের, একজন পূর্ব সন্দ্বীপের এবং আরেকজন রাউজান উপজেলার। তাঁরা ওমানে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
নিহতরা হলেন: আমিন মাঝি (৫০), মো. সাহাবুদ্দিন (২৮), মো. বাবলু (২৮), মো. রকি (২৭), মো. আরজু (২৬), মো. জুয়েল (২৮), মো. মোশারফ হোসেন রনি (২৬)। স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, ৮ অক্টোবর ধুকুম প্রদেশের সিদরা এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়।
শনিবার রাতে বিমানবন্দরে লাশ হস্তান্তর শেষে স্বজনরা জানান, রবিবার ভোরে তাঁরা মরদেহ নিয়ে সন্দ্বীপের উদ্দেশে রওনা দেবেন। পরদিন সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে পূর্ব সন্দ্বীপ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাত প্রবাসীর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশ নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “একসঙ্গে সাত রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু সন্দ্বীপবাসীর হৃদয়ে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। তাঁদের স্মরণে পুরো দ্বীপ আজ শোকস্তব্ধ।”