আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন,মহা পরিব্রাজক, পরম পূজনীয় ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর মহাথের মহোদয়ের ১৪তম ধুতাঙ্গ বর্ষপূরণ, দানোত্তম শুভ কঠিন চীবর দান ও একক সদ্ধর্ম দেশনা অনুষ্ঠানটি গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ রোলা-এর মোবারক সেন্টারে (Al Mubarak Centre) মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়,বুদ্ধ সারানা মেডিটেশন সেন্টার,বুদ্ধ ধাতু বিহার এবং শারজাহ বৌদ্ধ পরিষদের যৌথ আয়োজনে এই পুণ্যময় অনুষ্ঠানটি হাজারো ভক্ত ও পূণ্যার্থীর উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
ভান্তে শরণংকর মহাথের: এক বিরল সাধনার প্রতিকৃতি অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন শ্রদ্ধেয় ভদন্ত শরণংকর মহাথের। তার ১৪তম ধুতাঙ্গ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই আয়োজন। ধুতাঙ্গ সাধনার মাধ্যমে তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পদব্রজে ১৫,২০০ কিলোমিটার পরিভ্রমণ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য পদব্রজ যাত্রার মধ্যে রয়েছে ২০১৯-২০২০ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে ভারতের বিহার প্রদেশের বুদ্ধগয়া পর্যন্ত ৭,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ দর্শন।
এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৪০টি শ্মশান ও ৪টি মহারণ্যে ধুতাঙ্গশীল পালন করেছেন এবং বাংলাদেশ ও ভারত মিলে ৪ শতাধিক গ্রামে পদব্রজে ধর্মদেশনা প্রদান করেছেন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার অনুরাধাপুর শ্রী মহাবোধি, ক্যান্ডি দন্তধাতু এবং শ্রীপাদসহ প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পথ তিনি পদব্রজে দর্শন করেন। বর্তমানে তাঁর মোট ৪০ জন শিষ্য রয়েছেন।সাউথ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বৌদ্ধ ইউনিভার্সিটিতে ৬ জন উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত আছেন। তাঁর উদ্যোগে বাংলাদেশে ১০টি বুদ্ধ বিহার ও ধুতাঙ্গ কুঠির এবং বহির্বিশ্বে মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, দুবাই, সাউথ কোরিয়ায় আরও ৪টি মেডিটেশন সেন্টার ও কুঠির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানসূচি ও ধর্মদেশনা
শুক্রবার সকাল ৯.০১ মিনিটে পূজনীয় ধুতাঙ্গ ভান্তের পিন্ডাচরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ৯.৩০ মিনিটে বুদ্ধ পূজা, পঞ্চশীল গ্রহণ, অষ্টপরিষ্কার সহ সংঘদান সম্পন্ন হয়। পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের পিন্ড গ্রহণ ও অতিথি আপ্যায়নের পর দুপুর ১২.৪০ মিনিটে উদ্ধোধনী ও স্বাগত ভাষণ প্রদান করা হয়। শ্রীলঙ্কার প্রাজ্ঞ ভিক্ষু সংঘের ধর্মদেশনার পর দুপুর ১.৩০ মিনিটে পরম পূজনীয় ভদন্ত শরণংকর মহাথের মহোদয় তাঁর একক সদ্ধর্মদেশনা প্রদান করেন, যেখানে তিনি “সর্ব কুশল কর্ম সম্পাদন করা, নিজের চিত্তকে বিশুদ্ধ রাখা, ইহাই উত্তম মঙ্গল” – বুদ্ধের এই অমীয় বাণীকে কেন্দ্র করে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশ তথা সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বিশ্ব শান্তি কামনা করেন।
উপস্থিত গণ্যমান্য ভিক্ষুসংঘ
এহেন পূর্ণময় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে বহু পূজনীয় ভিক্ষুসংঘ উপস্থিত ছিলেন:
* ভদন্ত পূজাপিতিয়া নালাকা থের
* ভদন্ত পাস্সারা মুলিয়া জ্যোতি থের, শ্রীলং মেডিটেশন সেন্টার। ইউ.এ.ই.
* ভদন্ত অমাল্কাধা ধম্মারতনা থের,
* ভদন্ত এধবাতুওয়ে ইন্দ্রারতনা থের,
* ভদন্ত অগ্গাল্কাধা বাহ্মারাত্না থের, দুবাই বুদ্ধিস্ট বিহার।
এছাড়াও শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো পূণ্যার্থী ও দায়ক-দায়িকা বৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই দানোত্তম কঠিন চীবর দানে অংশ নেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশী বৌদ্ধ সম্প্রদায় এই মহৎ আয়োজন সফল করার মাধ্যমে তাদের ভক্তি ও শ্রদ্ধার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। এই মহান বুদ্ধ পুত্র সর্ব ত্যাগী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর সর্বাঙ্গীন শ্রীবৃদ্ধি কামনায় সকলে সমবেতভাবে পুণ্য সঞ্চয় করেন।