সৌদি আরবে হজ এজেন্সিগুলোর কাছে আটকে থাকা প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ‘মাসার নুসুক’ প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ৯৯০টি হজ এজেন্সির অব্যয়িত অর্থ জমা ছিল। সেখান থেকে মোট এক কোটি ২৫ লাখ ৩৮ হাজার ৪৬৮ সৌদি রিয়াল ও ৫৭ হালালা ফেরত আনা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার সমান।
এই অর্থ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ হজ অফিসের নুসুক প্ল্যাটফর্মের আইবিএএন অ্যাকাউন্ট থেকে সৌদি ফ্রান্সি ব্যাংকে পরিচালিত হজ অফিসের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
খালিদ হোসেন জানান, ফেরত পাওয়া অর্থের মধ্যে ৮৩১টি এজেন্সির ব্যাংক হিসাব শনাক্ত করা গেছে, যাদের কাছে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। বাকি ১৫৬টি এজেন্সির ব্যাংক তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। তথ্য পাওয়া মাত্র তাদের অর্থও পরিশোধ করা হবে। একটি এজেন্সি সর্বাধিক ৪৫ লাখ টাকা, আর একটি সর্বনিম্ন ২ টাকা ফেরত পাবে।
ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “বিগত কয়েক বছরের আটকে থাকা অর্থ ফেরত আনা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনারই ফল। আমরা ২০২৫ সালের হজসহ ভবিষ্যতের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ হজযাত্রী বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করেন। সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব এজেন্সি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে নুসুক প্ল্যাটফর্মে হজের খরচ জমা দেয়। বর্তমানে সেখানে ১,৩৩৯টি বাংলাদেশি এজেন্সি নিবন্ধিত রয়েছে।
গত কয়েক বছরে প্রেরিত অর্থের কিছু অংশ অব্যয়িত থেকে যায় বলে জানান তিনি। “আমরা বিষয়টি শনাক্ত করার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছি—চিঠি, বৈঠক ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে। তাদের সহযোগিতায় অবশেষে অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে,” বলেন খালিদ হোসেন।
তবে এই অর্থ হজযাত্রীদের ফেরত দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, “এটি হজ এজেন্সিগুলোর বাণিজ্যিক হিসাবের অংশ, হজযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ নয়। অনেক সময় তারা প্রয়োজনের চেয়ে কিছু বেশি অর্থ পাঠান, যেন ব্যয় ঘাটতি না হয়।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সফল পদক্ষেপ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন ও আস্থার নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।