প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় নিয়মিতভাবে শরৎ উৎসব আয়োজন করে আসছে সাংস্কৃতিক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী। তবে এবছর হঠাৎ করেই অনুষদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে বিকল্প স্থানে আয়োজনের চেষ্টা করলেও পুলিশের বাধার মুখে অনুষ্ঠানটি সংক্ষিপ্ত আকারে অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী জানান, “১৯ বছর ধরে আমরা শরৎ উৎসব আয়োজন করছি, কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো দুটি স্থান থেকেই আমাদের ওপর বাধা এসেছে।”
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চারুকলা অনুষদ অনুষ্ঠানটির অনুমতি বাতিল করলে আয়োজকেরা শুক্রবার সকালে পুরনো ঢাকার গেন্ডারিয়ার কচিকাঁচার মেলা স্কুলে উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সেখানেও পুলিশের পক্ষ থেকে ‘অনুমতি না থাকা’ এবং অভিযোগের কথা জানিয়ে অনুষ্ঠান করতে বাধা দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত তারা সংক্ষিপ্তভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং প্রয়াত সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীনের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন।
মানজার চৌধুরী অভিযোগ করেন, “আমাদেরকে হঠাৎ ফ্যাসিবাদের দোসর বলা হলো— অথচ আমরা কেবল প্রকৃতির উৎসব পালন করি, রাজনীতির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও জানান, অনুমতি থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করে অনুষ্ঠান বন্ধের কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি চারুকলা কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ওঠায় অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়। শনিবার জরুরি বৈঠকে সব পক্ষকে ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে— অনুষ্ঠানটি পুনরায় আয়োজন করা যাবে কি না।”
এদিকে, পুলিশের ওয়ারী জোনের উপ-কমিশনার হারুন অর রশীদ জানান, আয়োজকেরা গেন্ডারিয়ায় অনুষ্ঠানের জন্য পূর্বানুমতি নেননি। সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষও অনুষ্ঠান করতে রাজি ছিল না, তাই পুলিশের কোনো বিশেষ ভূমিকা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
প্রতি বছর শরৎ, বর্ষা ও নবান্ন উৎসবসহ ঋতুভিত্তিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী চারুকলায় সংস্কৃতি চর্চা করে আসছে। আয়োজকদের মতে, এবারের বাধা শুধু একটি উৎসব নয়— দীর্ঘদিনের একটি সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতারও ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।