ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরীমনি তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির হওয়া এবং আদালত চত্বরে এক সাংবাদিকের সঙ্গে অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আবারও আলোচনায় এসেছেন। ব্যক্তিগত ও কর্মজীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা আলোচনা-সমালোচনায় থাকা এই নায়িকার অতীত জীবন ও সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।
পরীমনির প্রকৃত নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। ১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলায় জন্ম তাঁর। ২০০৭ সালের দিকে তাঁর মা আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান। এরপর বাবার সঙ্গে সাভারে বসবাস শুরু করেন তিনি। মাঝে মাঝে বরিশালে নানা বাড়ি গিয়ে থাকতেন। সেখানে মাসুদ নামের দূর-সম্পর্কের এক আত্মীয়ের সঙ্গে তাঁর প্রেম ও বিয়ে হয়। শোনা যায়, নানা বাড়ি থেকে মাসুদের সঙ্গে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে গিয়েছিলেন তিনি। এক মাস পর বরিশালে ফিরে আসার কিছুদিন পর তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে।
২০১১ সালের দিকে বাবার সঙ্গে সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকায় বসবাস শুরু করেন পরীমনি। ২০১২ সালের শুরুর দিকে সিলেটে তাঁর বাবার গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষ তাঁকে খুন করে। এরপর থেকে পরী সাভারে এক খালার বাসায় থাকা শুরু করেন।
২০১১ সাল থেকে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা) নাচ শিখতে ভর্তি হন তিনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করার সুবাদে টিভি নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান। ‘সেকেন্ড ইনিংস’, ‘এক্সক্লুসিভ’, ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’ ও ‘নারী ও নবনীতা তোমার জন্য’সহ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন।
২০১৪ সালের দিকে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় কথিত প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের। রাজের মাধ্যমেই সিনেমায় আসার পথ প্রশস্ত হয়। ২০১৫ সালে নজরুল ইসলাম খানের পরিচালনায় ‘রানা প্লাজা’ ছবিতে অভিনয় করলেও ছবিটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে রাজের প্রযোজনায় শাহ আলম মণ্ডলের পরিচালনায় ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। প্রথম ছবি মুক্তির আগেই ১৯টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়ে সিনেমাপাড়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। সে সময় নজরুলের সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন তিনি।
অভিনয় জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিজীবন ও বিয়ে নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির সঙ্গে দুজনের বিয়ের খবর ও কাবিননামা প্রকাশ পায়। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত ছবিতে দাবি করা হয়, পরীমনি ইসমাইল নামের একজনের স্ত্রী। কিছুদিন পর সৌরভ কবীর নামের আরেক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর বিয়ের কাবিননামা ও ঘনিষ্ঠ ছবিও প্রকাশ পায়। এর আগে নাটকে অভিনয় করার সময় সেতু নামের এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁরা দুই বছর সংসার করেছিলেন বলে জানা যায়।
২০১৭ সালে তামিম হাসান নামের এক সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ পায় এবং তাঁদের বাগদানও হয়েছিল। তামিমকে নিয়ে বিভিন্ন দেশেও ঘুরেছেন তিনি। দুই বছর প্রেমের পর ২০১৯ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। সর্বশেষ অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনার দিনও তাঁর সঙ্গে তামিমের উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল।
এরপর ২০২০ সালের ৯ মার্চ রাতে অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজী ডেকে সহকারী কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন পরীমনি। তবে সেই সংসারও পাঁচ মাসের মাথায় ভেঙে যায়।
এছাড়া ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় পলাতক আসামি ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে আলোচনা রয়েছে। গুঞ্জন ছিল, আজিজ তাঁকে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুবাদে ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল এবং দীর্ঘ সময় তাঁর ছত্রছায়ায় ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে সেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হলে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শিল্পপতির সঙ্গেও তাঁর সখ্য গড়ে ওঠে।