টানা চার মাস ধরে বাড়ছে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম। এবার দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জ্বালানির মূল্য ৬ টাকা ৩২ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে দাম।
বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। ২০২৫ সালের মে মাস থেকে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করে আসছে সংস্থাটি।
বিইআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮৯ টাকা ৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগের মাসে লিটারপ্রতি দাম ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৯৫ টাকা ১২ পয়সা। যুদ্ধ শুরুর পর মার্চ মাসে দুই দফায় জ্বালানিটির দাম মোট ১০৭ টাকা বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের মূল্য ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ১৬৩৭ ডলার করা হয়েছে।
বিইআরসি সূত্র জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে জেট ফুয়েল বিক্রির ক্ষেত্রে দুই পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হয়। এত দিন এ খাতে ১৭ শতাংশ ভ্যাট হিসাব করা হলেও তা সঠিক ছিল না। সম্প্রতি এ হিসাব সংশোধনের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সতর্ক করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে সাড়ে ২২ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম কমলেও ভ্যাটের প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জ্বালানিটির মূল্য বেড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরানে যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালালে তেলসমৃদ্ধ অঞ্চলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষের হামলায় জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি শুরু হলে দাম কমতে থাকে।
আগে জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের বিধান বাতিল করে। পরে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের দায়িত্ব বিইআরসির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ওই প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানির আয়োজন করে বিইআরসি। এরপর থেকে প্রতি মাসে জ্বালানিটির মূল্য সমন্বয় করে আসছে সংস্থাটি।