বার্সেলোনায় গত সপ্তাহের দাঙ্গা, ভাঙচুর ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ৩১ অক্টোবর শহরটিতে ব্লোকাস (Blocus) গোষ্ঠীর নামে নতুন কর্মসূচির ডাক ছড়িয়ে পড়ার পর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে কাতালোনিয়ার পুলিশ। এরই মধ্যে গোষ্ঠীটির স্পেনের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠককে জামিন ছাড়াই সাময়িক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ভ্যালেন্সিয়ার তোরেন্তের একটি আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ের অভিযোগ রয়েছে।
গার্দিয়া সিভিল শুক্রবার ভ্যালেন্সিয়ার পিকানিয়া এলাকা থেকে ওই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ তাঁকে স্পেনে ব্লোকাসের কথিত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সংগঠক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শনিবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁকে বিচারাধীন অবস্থায় জামিন ছাড়া কারাগারে রাখার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে কারাগারে তাঁর যোগাযোগের ওপর বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি কম্পিউটার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত হতে পারে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। ভ্যালেন্সিয়ার উচ্চ আদালত এ তথ্য জানিয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধী সংগঠন গঠন, জনশৃঙ্খলা ভাঙচুরে উসকানি, দোকানে জোরপূর্বক প্রবেশ করে চুরি এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে সংগঠিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্ত চলছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সহিংসতা সমন্বয়ের অভিযোগ
তদন্তকারীদের দাবি, ওই তরুণ নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে স্পেনে ব্লোকাসের নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন। বার্সেলোনাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, বিশৃঙ্খলা ও দোকানপাটে লুটপাটের সমন্বয়ে ব্যবহৃত টেলিগ্রাম গ্রুপগুলো তৈরি ও পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

পুলিশের তদন্তে ব্লোকাসের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন কর্মসূচির ডাক এবং সহিংসতায় উসকানিমূলক বার্তার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে গত সপ্তাহের বার্সেলোনার দাঙ্গায় তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা কতটা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, মোতায়েন ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য
৩১ অক্টোবর শনিবার ব্লোকাসের নামে বার্সেলোনায় একাধিক সমাবেশের ডাক ছড়িয়ে পড়েছে। প্লাসা কাতালুনিয়া ও পাসেইগ দে লুইস কোম্পানিস এলাকায় বিকেল ৫টায় এবং পাসেইগ দে গ্রাসিয়ায় রাত ৮টায় কর্মসূচির কথা প্রচার করা হয়েছে।
সম্ভাব্য সহিংসতা ও দোকানপাটে লুটপাট ঠেকাতে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা বার্সেলোনায় সর্বোচ্চ ঝুঁকির স্তর ৪ অনুযায়ী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। শহরে ৩০০-র বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে গণপরিবহন ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচয় যাচাই এবং তল্লাশি চালানোর কথা জানিয়েছে পুলিশ। বিপজ্জনক বস্তু ও আতশবাজি জব্দ করাও এ অভিযানের অংশ।
শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার অনেক দোকান তাদের কাচের সামনের অংশ ও প্রবেশপথ সুরক্ষিত করেছে। কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে পুলিশ সব দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি।

বার্সেলোনার বাইরে কাতালোনিয়ার আরও কয়েকটি শহরেও ব্লোকাসের নামে কর্মসূচির ডাক রয়েছে। লেইদা, বাদালোনা, ইগুয়ালাদা, মাতারো, জিরোনা, তেরাসা, গাভা, ফিগেরেস ও প্লাতজা দারোতে সম্ভাব্য সমাবেশ ঘিরে পৃথক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহের দাঙ্গায় ১৩৩ জন গ্রেপ্তার
এর আগে ২৪ অক্টোবর শনিবার বার্সেলোনায় একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ৬০০ জনের বেশি মানুষকে শনাক্ত করা হয়। প্রায় ৩০টি দোকান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়।
এদিকে ব্লোকাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে স্পেনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাতালোনিয়ায় ১৬ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোরকে বেলমুন্ট দ’উরজেল ও সান্ত সাদুরনি দ’আনোইয়া থেকে এবং বার্সেলোনা থেকে ১৮ বছর বয়সী আরেক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে মোসোস দ’এসকোয়াদ্রা। ভ্যালেন্সিয়া, টেনেরিফ, মালাগা ও বিলবাওয়েও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে, পালমায় ব্লোকাস মায়োর্কা গোষ্ঠীর নামে আয়োজিত কর্মসূচি সহিংসতায় রূপ নেওয়ার পর আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বার্সেলোনায় নতুন কর্মসূচি ঘিরে পুলিশি তৎপরতা এবং ব্লোকাসের কথিত সংগঠকের কারাবাসের মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি এখন আরও নজরদারিতে রয়েছে। ৩১ অক্টোবরের কর্মসূচিগুলোতে নতুন করে সহিংসতা বা লুটপাটের ঘটনা ঘটে কি না, সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।