স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উর্দার কাছে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষের পেছনে রেলপথের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি এবং ট্রেন চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ভুল সিদ্ধান্তের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ২৮ অক্টোবর সকালে রেলপথের নিরাপত্তাব্যবস্থা এলজেডবি (LZB) কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার পর দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রেনফের একটি এভিই ট্রেন একই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়।
কীভাবে শুরু হয় সমস্যা?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকটি কম্পিউটারের মধ্যে যোগাযোগের সমস্যার কারণে এলজেডবি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। এই ব্যবস্থা ট্রেনের অবস্থান ও গতি পর্যবেক্ষণ করে এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে। ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রেলপথে চলাচলকারী কয়েকটি ট্রেন থেমে যায়।
এলজেডবি বন্ধ হলে কী হওয়ার কথা?
এলজেডবি কাজ না করলেও ট্রেন চালানো অসম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে বিকল্প নিয়মে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। চালকদের রেললাইনের পাশের সংকেত মেনে চলতে হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী গতি কমিয়ে এমনভাবে এগোতে হয়, যাতে সামনে বাধা দেখা দিলে ট্রেন থামানো যায়। রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকেও নিশ্চিত করতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পথে অন্য কোনো ট্রেন আটকে নেই।
কোথায় ভুল হয়ে থাকতে পারে?
স্পেনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিভিই এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাব্যবস্থা বন্ধ হওয়ার পর আদিফের মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে রেনফের এভিই ট্রেনটিকে আবার চলার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু একই পথে ইরিওর ট্রেনটি তখনও দাঁড়িয়ে ছিল বলে প্রাথমিক তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। ফলে এভিই ট্রেনটি সামনে থাকা ট্রেনটির পেছনে গিয়ে ধাক্কা দেয়।
প্রকাশিত অডিও রেকর্ডিং সম্পর্কিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের এক কর্মী এভিই ট্রেনের চালককে বিকল্প সংকেতব্যবস্থার অধীনে স্বাভাবিক গতিতে চলা শুরু করতে বলেছিলেন। অন্যদিকে, ইরিও ট্রেনের চালকও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে জানিয়েছিলেন যে তাঁর ট্রেনটি তখনও দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই তথ্যগুলো থেকে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে যোগাযোগ, ট্রেনের অবস্থান যাচাই এবং চলার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে।
তাহলে কি এলজেডবি নষ্ট হওয়াই দুর্ঘটনার কারণ?
শুধু এলজেডবি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়াকে দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ বলা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য বিকল্প নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্দিষ্ট পরিচালনাবিধি থাকার কথা। তদন্তে এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিকল্প ব্যবস্থার নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির অবস্থান যাচাই করা হয়েছিল কি না এবং এভিই ট্রেনকে চলার অনুমতি দেওয়ার সময় কী তথ্য নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের কাছে ছিল।
রেল দুর্ঘটনা তদন্তকারীদের ট্রেনের তথ্য রেকর্ড, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের অডিও, সংকেতব্যবস্থার নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের বক্তব্য পরীক্ষা করে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।
প্রাথমিক মূল্যায়ন
এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটির সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, প্রথমে এলজেডবি নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়। এরপর বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল পুনরায় চালুর সময় কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা নিয়ম প্রয়োগে ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বা দায়ী ব্যক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।