বার্সেলোনার কেন্দ্রস্থলে আন্দোলনের আড়ালে দোকানপাট ভাঙচুর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য লুটের ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে লুটপাট ও ভাঙচুরে জড়িতদের এক করে দেখার সুযোগ নেই। কোনো আন্দোলনে অংশ নেওয়া আর সেই আন্দোলনের সুযোগে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

গত ২৪ অক্টোবর প্লাসা কাতালুনিয়াসহ বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় এলাকায় তরুণদের একটি জমায়েতকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, দোকানে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালায় এবং বহু ব্যক্তিকে আটক করে।
স্পেনের সংবাদমাধ্যম এল পাইসের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তরুণদের জড়ো করা হয়েছিল। প্রতিবেদনে কিছু গোষ্ঠীর বার্তায় দোকান লুট এবং পুলিশের নজর এড়িয়ে চলার নির্দেশ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেক তরুণকে কালো পোশাক ও মুখ ঢাকা অবস্থায় দেখা গেছে। তবে পোশাক বা বাহ্যিক চেহারা দিয়ে কারও রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় না।

আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ‘ব্যবস্থার বিরুদ্ধে’ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রতিবাদের স্লোগান সামনে এলেও, ঘটনাটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফ্রান্সে তরুণদের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রভাবও থাকতে পারে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণার কথা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আটকের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। এল পাইসের প্রতিবেদনে ১২৮ জনকে আটকের কথা বলা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৭২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তবে আটক ব্যক্তিদের সবাই লুটপাটে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন কি না, তা আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার পর আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে- লুটপাটে জড়িতরা স্পেনের স্থানীয় তরুণ, নাকি অভিবাসী? এখন পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য স্পষ্ট নয়। ফলে প্রমাণ ছাড়া তাদের কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তা বা অভিবাসী পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করা সমীচীন হবে না।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় বিক্ষোভের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য সংগঠক এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় আলাদাভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। আন্দোলনের নামে অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই নিতে হবে। একই সঙ্গে, অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ ছাড়া সব আন্দোলনকারীকে দায়ী করাও যুক্তিসংগত নয়। তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট করবে, কারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন এবং কারা সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুটপাটে জড়িয়েছিলেন।