২০২৬ সালের গ্রীষ্মে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে বার্সেলোনায় আনুমানিক ১ হাজার ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ইউরোপের শহরগুলোর মধ্যে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যায় ইতালির মিলানের পরই রয়েছে স্পেনের এই শহর। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজ ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকদের এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ন্যচারাল হেলথ (Nature Health)-এ প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের ৮৫৪টি শহরে তাপের কারণে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষকেরা হিসাব করেছেন। অর্থাৎ মোট তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় ৬৫ শতাংশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন দায়ী বলে অনুমান করা হয়েছে।
মিলানে তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আনুমানিক ১ হাজার ৬২৭। এই হিসাবে বার্সেলোনা ইউরোপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর শহর।

স্পেনের ৯০টি শহরে ৬ হাজার ৮২৪ মৃত্যু:
গবেষণায় স্পেনের ৯০টি শহরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব শহরে চলতি গ্রীষ্মে তাপের সঙ্গে সম্পর্কিত আনুমানিক ৬ হাজার ৮২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২২৭টি মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষকেরা অনুমান করেছেন। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় ৭৭ শতাংশের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলে হিসাব করা হয়েছে।
গবেষণায় কাতালোনিয়ার ১১টি শহর অন্তর্ভুক্ত ছিল। এগুলো হলো বার্সেলোনা, তারাগোনা, লেইদা, জিরোনা, ইগুয়ালাদা, গ্রানইয়ার্স, ভিলানোভা ই লা গেলত্রু, মাতারো, মোলেত দেল ভায়েস, রেউস ও মানরেসা।
শহরভিত্তিক হিসাবে, তারাগোনায় তাপের কারণে আনুমানিক ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩৪টি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। লেইদায় তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা ৫২, যার মধ্যে ৩৫টি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়েছে। অন্যদিকে জিরোনায় আনুমানিক ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২৬টি মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষকেরা হিসাব করেছেন।
২০০০ সালের পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম:
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর বিশ্লেষণ করা ইউরোপীয় শহরগুলোর মধ্যে ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে তাপজনিত মৃত্যুর আনুমানিক সংখ্যা সর্বোচ্চ। তুলনায়, ২০২২ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮০ জন এবং ২০০৩ সালে প্রায় ২৮ হাজার ৪৬২ জনের তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব করা হয়েছিল।
গবেষণায় বলা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি শতকের শুরুর দিকে তাপের কারণে হওয়া মৃত্যুর আনুমানিক ৪০ শতাংশ মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। চলতি গ্রীষ্মে সেই অনুপাত বেড়ে প্রায় ৬৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
জুনের শেষ ভাগে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে সংকটজনক:
গবেষণায় ১৭ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত সময়কে বিশেষভাবে সংকটপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই আনুমানিক মোট তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঘটেছে বলে হিসাব করা হয়েছে।
ওই দিনগুলোতে ইউরোপের সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের দৈনিক গড় তাপমাত্রা ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের স্বাভাবিক তাপমাত্রার তুলনায় পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল।
গবেষকদের এই হিসাব জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপজনিত মৃত্যুর মধ্যে সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সময় বয়স্ক মানুষ এবং শারীরিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষায় সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
| তথ্যসূত্র:** ACN, betevé, Nature Health