বাংলাদেশ পুলিশের যানবাহন সংকট দূর করা, জরুরি সেবার মানোন্নয়ন এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে ৫ হাজার ৮৩০টি যানবাহন কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ জন্য মোট ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য আগামী রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী ২৫ অক্টোবর সচিবালয়ে একনেকের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন একনেকের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত দুটি প্রকল্পের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি সাধারণ পরিচালন যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা এবং ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার জন্য ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন হতে যাওয়া প্রকল্প দুটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি প্রশাসনিক থানা বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি যানবাহন দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় সেবা দিচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি করেও যানবাহন নেই। বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশের বয়স ১০ বছরের বেশি।
এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত টহল, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময় দ্রুত পুলিশ সদস্যদের মোতায়েনে সমস্যা হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশের চলাচল ও কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। পাশাপাশি অপরাধ দমন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রকল্পের আওতায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের গাড়ি, সর্বভূমিতে চলাচল উপযোগী যান, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার ও অপরাধস্থল তদন্তের জন্য বিশেষ ভ্যান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব যানবাহন জনতা নিয়ন্ত্রণ, দুর্গম এলাকায় অভিযান পরিচালনা এবং অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও তদন্তের কাজে ব্যবহার করা হবে।
এ ছাড়া দেশের নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রুতগতির নৌযান এবং ইঞ্জিনচালিত নৌকা কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রকল্প দুটির আওতায় অর্থবছরভিত্তিক ব্যয়ের পরিকল্পনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৮০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ হাজার ৮৬৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ৬৬০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি চালক ও মেকানিক তৈরির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সাধারণ পরিচালন যানবাহন প্রকল্পে ১ হাজার জন এবং বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পে ৯৬০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া গাড়ি মেরামতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার জন্য দেড় কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।