পর্তুগালে নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির রেজিস্ট্রি ও নোটারি ইনস্টিটিউটের (আইআরএন) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নাগরিকত্বের জন্য মোট ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এক বছরের ব্যবধানে এই সংখ্যা বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। আবেদন জমে থাকার এই পরিস্থিতিতে নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের অপেক্ষার সময় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
এক বছরে আবেদন বেড়েছে ৩৮ শতাংশ
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম পাবলিকো প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের একই সময়ে নাগরিকত্বের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। ২০২৬ সালের জুনের শেষ নাগাদ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০টিতে। অর্থাৎ, এক বছরে আবেদন জমে থাকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্তুগালের বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই পরিসংখ্যান দেশটির নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের চিত্র তুলে ধরেছে।
আবেদনের কত অংশ অভিবাসীদের?
জমে থাকা আবেদনগুলোর মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশ পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের, যারা বৈধভাবে বসবাসের নির্ধারিত সময় পূরণ করে নাগরিকত্বের আবেদন করেছেন। বাকি আবেদনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জন্ম নেওয়া পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের আবেদন, সেফারদি ইহুদি বংশোদ্ভূতদের আবেদন এবং পর্তুগিজ নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রীর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদন।
অর্থাৎ, নাগরিকত্বের জন্য অপেক্ষমাণ সব আবেদনকে পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের আবেদন হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। বিভিন্ন আইনি ভিত্তিতে জমা দেওয়া আবেদনগুলো মিলিয়েই এই বিপুল সংখ্যা তৈরি হয়েছে।
নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন
২০২৬ সালের মে মাসে পর্তুগালের জাতীয়তা আইনে পরিবর্তন আনা হয়। নতুন বিধানে বসবাসের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বৈধ বসবাসের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আবেদনকারীর উৎসভেদে সাত বা দশ বছর করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে জন্ম নেওয়া পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের মধ্যে প্রপিতামহ বা প্রমাতামহের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগও সম্প্রসারিত হয়েছে।
তবে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পরপরই জমে থাকা আবেদনগুলোর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি দিয়ে পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ, ৩০ জুনের পরিসংখ্যানটি মূলত ওই তারিখ পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা সব আবেদনকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন পরিবর্তনের পর প্রায় ছয় সপ্তাহের সময়ের তথ্যও এই পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয়েছে।
এ ছাড়া, পর্তুগালের রেজিস্ট্রি ও নোটারি ইনস্টিটিউট (আইআরএন) জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার তারিখের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট আবেদনে জাতীয়তা আইনের পরিবর্তিত বিধান প্রযোজ্য হবে কি না, তা নির্ধারণ করা হবে
আবেদন নিষ্পত্তিতে জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ
দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের আবেদন ঝুলে থাকা এবং প্রশাসনিক সেবায় বিলম্বের বিষয়টি নিয়ে রেজিস্ট্রি ও নোটারি খাতের শ্রমিক সংগঠনও সমালোচনা করে আসছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিচার মন্ত্রণালয় ও আইআরএন যৌথভাবে আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বিচার মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রেজিস্ট্রি সেবার জমে থাকা কাজ কমাতে মোট ৭৮ জন পেশাজীবীকে বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৪১ জনকে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত বিশেষ দলে রাখা হয়েছে। এই দলগুলো ১ জুলাই থেকে কাজ শুরু করে।
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য কী অর্থ বহন করছে এই পরিস্থিতি?
প্রায় সাত লাখ আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকার পরিসংখ্যান নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তবে শুধু এই সংখ্যা দেখে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন কত দিনে নিষ্পত্তি হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদন জমা দেওয়ার সময়, আবেদনের ধরন, নথিপত্র যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের মতো বিষয়গুলো প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।