কলকাতার চোরবাগানে দুর্গাপূজার মণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনায় অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে ঢোকার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, আহত অন্তত ৩৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতালে পৌঁছেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সপ্তমীর সন্ধ্যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হলে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে চোরবাগানের পূজামণ্ডপে প্রবেশের চেষ্টা করেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অনেকে। এ সময় ভিড়ের মধ্যে ঠেলাঠেলি শুরু হলে কয়েকজন পড়ে যান। পরে সেখানে পদদলনের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মণ্ডপের কাঠামো কিংবা প্রবেশপথের নকশার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে। মণ্ডপে প্রবেশের পর একটি বৃত্তাকার উঁচু করিডোর দিয়ে ঘুরে বের হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ওই করিডোরেই বিপত্তি ঘটে থাকতে পারে বলে সূত্রের দাবি।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কী কারণে হুড়োহুড়ি শুরু হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের অভিযোগ, সময়মতো পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি।
পূজার আয়োজক বিকাশ দাস বলেন, কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই আপাতত তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
তবে ভিড়ের চাপে পদদলনের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই প্রয়োজন।