ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত দিল্লির রাজপথে সাংসদদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসে আটক হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির রাজপথে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে পুলিশ। এর মধ্যেই কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে বের হতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বের হতে চাইলে পুলিশ তাঁকে অবরুদ্ধ করে। বাইরে বের হতে না পেরে তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে সাউথ অ্যাভিনিউয়ের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে ধরনায় বসেন তিনি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জানান, দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। কোনো ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে না দেওয়ায় তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের নিয়ে বাড়ির সামনের সড়কেই অবস্থান নেন। এরপরই তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
আটকের আগে অবস্থানস্থলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে বের হয়েছিলাম। জেন-জি আমাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু সিজেপির ছেলেদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বহু নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কাউকে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা সবসময় ছাত্র ও যুব সমাজের পাশে আছি।’
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যন্তর মন্তরে যেতে বাধা দেওয়া হলে তিনি বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূলনেত্রী অভিযোগ করেন, আন্দোলনকারীদের বাসে তুলে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ শহরের রাস্তায় ঘোরানো হচ্ছে। এমনকি অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও পিনারাই বিজয়নের সঙ্গেও পুলিশ একই আচরণ করেছে এবং তাঁকে দুই ঘণ্টা ধরে রাস্তায় ঘুরিয়েছে বলে দাবি করেন মমতা।