মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে যেসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সক্রিয় ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থীদের বিষয়টি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর কুয়ালালামপুরের কমপ্লেক্স সেরি পেরদানায় অনুষ্ঠিত ‘মালয়েশিয়া-মিয়ানমার সহযোগিতা সংলাপে’ অংশ নিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম এসব কথা বলেন। মালয়েশিয়ার ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (আইএসআইএস) উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় যেসব বিষয় নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে, সেগুলোকে অবশ্যই বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। শুধু আলোচনা বা সমঝোতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে সক্রিয় এবং সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরও জোরদারে একাডেমিক, গবেষক, নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠান এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এসব অংশীজনের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এ সংকটের সমাধানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়া সরকার এ ধরনের সংলাপ ও উদ্যোগকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করা হবে, যাতে সংলাপে উঠে আসা বিষয়গুলো বাস্তব সহযোগিতায় রূপ নেয় এবং এর সুফল দুই দেশের জনগণ সরাসরি পায়।
আনোয়ার ইব্রাহিম আরও বলেন, উন্মুক্ত ও গঠনমূলক সংলাপ এবং আন্তরিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা আরও শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের পথ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে এমন সহযোগিতার ক্ষেত্রও সম্প্রসারিত হবে, যা জনগণের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনবে।
মালয়েশিয়া ও মিয়ানমারের মধ্যে চলমান সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক বিভিন্ন ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের পাশাপাশি মিয়ানমারের শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।