মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে প্রবাসী কওমি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ’ (আওসবি)।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানী কায়রোর নাদিউজ জাহির মিলনায়তনে ‘আওসবি কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা সেমিনার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াবের সভাপতিত্বে এবং আব্দুল বাসেত নাদীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। শুরুতেই কুরআন তিলাওয়াত করেন ক্বারী রায়হান উদ্দিন ও মুহসিন আহমদ মাহদী এবং ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন ওবায়দুল্লাহ আল আহরার।
অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন আবু আদনান মহিবুর রহমান, মোশাররফ হোসেন, আব্দুল আজিজ তরফদার, আব্দুর রহমান মোতালেব ও মিসবাহুল হক মেরাজী। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় লেখক পরিষদের সভাপতি সৈয়দ শামসুল হুদা, দৈনিক আমার দেশের সহকারী সম্পাদক আলী হাসান তৈয়ব, সাইফুর রহমান ও তাসদিদ বিন আব্দুল ওয়াদুদ। কৃতী শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন মুহাম্মাদ মাসুম বিল্লাহ ও মাহবুবুল আলম।
শতাধিক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা
সেমিনারের দ্বিতীয় পর্বে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও এমফিল অর্জনকারী, স্নাতক সম্পন্নকারী এবং একাডেমিক ফলাফলে এক্সিলেন্ট, ভেরি গুড ও টপ টেন ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী শতাধিক বাংলাদেশি কৃতী শিক্ষার্থীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আল-আজহারের অধীনে ইমাম প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ছয়জন ইমাম এবং ‘দশ কেরাত’-এর সনদ অর্জনকারী ক্বারী রায়হান উদ্দিনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে ও আওসবি সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যের প্রশংসা
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে এমন চমৎকার আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্পন্ন করা বিভিন্ন অনুষদের শীর্ষ ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫৭ জনই বাংলাদেশি—যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এটি শিক্ষার্থীদের মেধা, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার উজ্জ্বল প্রমাণ।
শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশ, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জ্ঞানার্জনের সঙ্গে সঙ্গে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বাস দেন, মিশরে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাস সবসময় পাশে থাকবে।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব ২০২৬ সেশনে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং প্রবাসজীবনে শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে আখতারুজ্জামানের দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী, অতিথি ও প্রবাসী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিতদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারে আপ্যায়ন করা হয়।