ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ ও থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গিয়ে পুলিশের একটি দল জনতার ধাওয়া খেয়ে মডেল মসজিদে আশ্রয় নেয়। দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আলগী ইউনিয়নের সোয়াদী এলাকা থেকে শুরু হয়ে বিক্ষোভকারীরা গোলচত্বর এলাকায় পৌঁছালে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা সাংবাদিকদের ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেয়।
বিক্ষোভকারীরা উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং থানার ভেতরে ঢুকে পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন স্থাপনায়ও হামলা চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এদিকে সকাল থেকেই ঢাকা-বরিশাল ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে এলাকাবাসী। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ ভ্যান বা মোটরসাইকেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে উপজেলা সদরে এসে জড়ো হচ্ছেন। বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ।

বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, ভাঙ্গা থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিয়েছে, তা বাতিল করে পুনরায় ভাঙ্গার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচির হুমকিও দিয়েছেন তারা।
গত ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচনী আসন পুনর্বিন্যাসের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। তাতে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন কেটে নেওয়ার ঘোষণা আসে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই এলাকাবাসী ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধ কর্মসূচি কয়েক দিন বিরতি দিয়ে আবারও শুরু হয়। রবিবার থেকে নতুন করে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পুলিশের ভাঙ্গা সার্কেল, থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। তবে হাইওয়ে পুলিশের ওসি মোহাম্মদ রোকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।