লোকসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ফরিদা পারভীনকে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে দাফন করার প্রস্তুতি চলছে। রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে তাঁর জন্য কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।
গোরস্তানের খাদেম নূর ইসলাম জানান, ফরিদা পারভীনের আত্মীয় আবদুর রাজ্জাক এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়াত শিল্পীর বাবা-মায়ের কবরের পাশেই তাঁকে শায়িত করা হবে। ১৯৯৬ সালে তাঁর বাবা দেলোয়ার হোসেনকে এবং পরবর্তীতে মা রৌফা বেগমকে এখানেই দাফন করা হয়েছিল।
গতকাল শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭১ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ফরিদা পারভীন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্ম নেওয়া এ শিল্পী গানের ভুবনে কাটিয়েছেন ৫৫ বছরের বেশি সময়। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী ও চার সন্তান রেখে গেছেন।
ফরিদা পারভীনের সংগীতযাত্রা শুরু হয়েছিল মাগুরায়, চার-পাঁচ বছর বয়সে ওস্তাদ কমল চক্রবর্তীর কাছে প্রথম গান শেখার মাধ্যমে। নজরুলসংগীতের স্বরলিপি ও কণ্ঠশিক্ষা পান ওস্তাদ মীর মোজাফফর আলীর কাছ থেকে। ১৯৬৮ সালে তিনি রাজশাহী বেতারে নজরুলসংগীতশিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
স্বাধীনতার পর কুষ্টিয়ায় থেকে তিনি লালনগীতির সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমে মোকছেদ আলী সাঁইয়ের কাছ থেকে ‘সত্য বল সুপথে চল’ গান শেখেন এবং পরবর্তীতে খোদা বক্স সাঁই, ব্রজেন দাস, বেহাল সাঁই, ইয়াছিন সাঁই ও করিম সাঁইয়ের কাছ থেকে তালিম নেন।

লালন সাঁইয়ের গান বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বহু দেশে লালনগীতি পরিবেশন করেছেন।
কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি এসেছে নানা পুরস্কারে—১৯৮৭ সালে একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ২০০৮ সালে জাপানের ফুকুওয়াকা পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
ফরিদা পারভীনকে শুধু দেশ নয়, বিশ্বও মনে রাখবে লালনের বাণী ও সুর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।