মিশরের ঐতিহ্যবাহী আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আবাসিক ছাত্রাবাস ‘ইসলামিক মিশন সিটি’ পরিদর্শন করেছেন মিশরে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে। এ সময় বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে দেশ থেকে নিয়ে যাওয়া জাতীয় ফল কাঁঠালের দুটি চারা রোপণ করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর মাধ্যমে মিশরের মাটিতে প্রথমবারের মতো কাঁঠালগাছ রোপণ করা হলো।
রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কায়রোতে অবস্থিত ইসলামিক মিশন সিটিতে পৌঁছালে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল-আজহার শরিফের সহকারী মহাপরিচালক মোস্তফা, প্রেস সচিব ওমর ফাতেহি, মিশরে বাংলাদেশি ছাত্র সংগঠন ইত্তেহাদের সহসভাপতি দেলোয়ার মাহমুদ খান মিল্কি, পিএইচডি গবেষক আব্দুর রহিম, কিশোরগঞ্জের মাসুদ হাসান ও ভিসা-সংক্রান্ত প্রতিনিধি মুয়াজ বিন মাহবুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।
সাক্ষাতকালে আল-আজহারে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, ইসলামিক মিশন সিটিতে আবাসিক আসন বাড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আল-আজহার কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়।
মিশন সিটির পরিচালক ড. ঈসাম কাজি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, “কয়েক বছর ধরে আল-আজহারে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরা উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছেন। তারা মেধাবী, পরিশ্রমী ও বিনয়ী।
সাক্ষাতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গৌতম কুমার দে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি তুলে ধরেন। তিনি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে দেশের ঐতিহ্য পরিচয়ের স্মারক হিসেবে মিশন সিটিকে একটি কাঠের রিকশার মডেল উপহার দেন।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পড়াশোনার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়ে তারা দেশে ফিরে সমৃদ্ধি আনবেন-এটাই প্রত্যাশা।
পরে তিনি ড. ঈসাম কাজিকে সঙ্গে নিয়ে মিশন সিটির পাবলিক লাইব্রেরি, জিমনেশিয়াম, টেনিস ও বিলিয়ার্ড হলসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন। ১০৩টি দেশের শিক্ষার্থীরা যেখানে বসবাস করেন, সেখানে কাঁঠালগাছ রোপণকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরিদর্শন শেষে ড. ঈসাম কাজি আল-আজহারের পাঠ্যক্রম-সম্পর্কিত কিছু বই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতের হাতে তুলে দেন। রাষ্ট্রদূতও শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে দূতাবাসের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান।