প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। শুধু রেমিট্যান্স নয়, প্রবাসীদের মেধা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য ‘ব্রেইন ড্রেইন’ নয়, বাংলাদেশ এখন ‘রিভার্স ড্রেইন’ চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারের নতুন যাত্রায় বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী, সফল উদ্যোক্তা ও নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইসমাইল জবিউল্লাহ।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, মালয়েশিয়াভিত্তিক শক্তিশালী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের দেশের নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। মালয়েশিয়ায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে অদক্ষ শ্রমিকের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী রয়েছেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্রবাসীদের দেশে ফিরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই রিভার্স ড্রেইন। দেশের মেধাবী ও দক্ষ মানুষ বিদেশে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন, তা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।’
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এক কোটিরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মরত। তাদের কঠোর পরিশ্রম এবং পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, ‘প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের শ্রম ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।’
প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ তাদের কল্যাণে বিভিন্ন জনহিতকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও প্রাতিষ্ঠানিক করতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। কার্ডটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের হয়রানি কমিয়ে তাদের জন্য সহজ, নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী কার্ডধারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চেক-ইন ও বোর্ডিং এবং বলাকা লাউঞ্জ ব্যবহারের সুবিধা দেওয়ার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রবাসীদের জন্য পৃথক আবাসন ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সিলেট থেকে এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে। প্রবাসীদের বিনিয়োগ সহজতর করার পাশাপাশি তরুণদের জন্য দেশে বিশ্বমানের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের ভিশন রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রবাসীদের বিনিয়োগ, মেধা ও অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
মতবিনিময় সভায় মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত একাডেমিয়া, গবেষক, প্রযুক্তিবিদ ও নারী উদ্যোক্তাসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তারা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থান ও কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, পাসপোর্ট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা সহজীকরণ এবং প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী, মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান বাদল, সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুব আলম শাহ, সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন, সহসভাপতি তালহা মাহমুদসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও ছাত্র প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা, মালয়েশিয়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।