শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় কবরস্থানের জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় আনোয়ার হোসেন ভুইয়া (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নড়িয়া উপজেলার ভুমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার হোসেন ভুইয়া মানাখান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
আহত রুবেল ঢালী ও নড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মানাখান গ্রামের কবরস্থানের জায়গা নিয়ে স্থানীয় জয়দুল ঢালী ও রুবেল ঢালীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রুবেল ঢালীর সঙ্গে জয়দুল ঢালীর তর্ক-বিতর্ক হয়।
এ ঘটনার জের ধরে বুধবার বিকেলে রুবেল ঢালী জয়দুল ঢালীর বাড়ির সামনে দিয়ে কদমতলী বাজারে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা কয়েকজন তাকে লোহার রড ও কাঠ দিয়ে মারধর শুরু করে। এ সময় রুবেল ঢালীর সম্বন্ধী (স্ত্রীর বড় ভাই) আনোয়ার হোসেন ভুইয়া তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা আনোয়ার হোসেন ভুইয়াকে উদ্ধার করে প্রথমে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে জাজিরা-মাওয়া পদ্মা সেতুর ওপর অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তিনি মারা যান।
এদিকে হামলার ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে জয়দুল ঢালীর বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেন। এতে পাঁচটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে ভুমখাড়া ইউনিয়নের মানাখান এলাকায় লোহা কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ২ জনকে মারাত্মক আহত করে। ঢাকা নেওয়ার পথে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ৫ টি বাড়ীতে আগুন দিয়ে জালিয়ে দিয়েছে।”