বার্সেলোনায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানো পরিবারের সংকট এখন আর কয়েক মাসের অস্থায়ী সমস্যা নয়। জরুরি অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিশুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরে প্রায় অর্ধেক বেড়েছে। একই সময়ে এসব আবাসনে পরিবারের থাকার গড় সময় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে জরুরি অস্থায়ী আবাসনে থাকা শিশুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭০৫ জন। পাঁচ বছর পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫১৫-তে, অর্থাৎ বৃদ্ধি প্রায় ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
এর মধ্যে রয়েছে এমন পরিবারও, যারা একটি ঘর বা পেনশনে কয়েক মাস নয়, বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছে।
এরই একটি উদাহরণ মারিয়া মাগদালেনা ও তাঁর দুই মেয়ে। চার বছর ধরে তারা বাদালোনার একটি আবাসিক কেন্দ্রে থাকছেন। বাড়ি হারানোর পর বার্সেলোনার সামাজিক সেবার মাধ্যমে সেখানে আশ্রয় পান মারিয়া। তখন তিনি কেমোথেরাপির চিকিৎসার মধ্যেও ছিলেন।
তিনজনকে একটি ছোট ঘর ও বাথরুম ভাগ করে নিতে হচ্ছে। রান্নাঘর ব্যবহার করতে হয় অন্যদের সঙ্গে। দীর্ঘদিন একই সংকুচিত পরিবেশে থাকার কারণে তৈরি হচ্ছে চাপ ও মানসিক অস্বস্তি; পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত পরিসরও প্রায় নেই।
শুধু শিশুদের সংখ্যাই নয়, বেড়েছে জরুরি আবাসনে থাকার সময়ও। ২০২০ সালের তুলনায় ব্যক্তিদের গড় অবস্থানের সময় ৬২ শতাংশ এবং পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে ৯৬ শতাংশ বেড়েছে।
বর্তমানে জরুরি আবাসনে থাকা ৭৬ শতাংশের বেশি মানুষের অবস্থান ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে। অনেক পরিবার এক বছরের বেশি সময় ধরে সেখানে রয়েছে। এমনকি প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জরুরি আবাসনেই বসবাস করছেন।
বার্সেলোনা সিটি কাউন্সিলের সামাজিক কার্যক্রমবিষয়ক কমিশনার সোনিয়া ফুয়ের্তেসের ভাষায়, জরুরি আবাসন মূলত সাময়িক সংকট মোকাবিলার জন্য তৈরি হলেও বাস্তবে এটি এখন অনেক পরিবারের জন্য প্রায় ‘মৌলিক আবাসন ব্যবস্থায়’ পরিণত হয়েছে।
সিটি কাউন্সিল বলছে, আবাসন সংকটের কারণে সামাজিক সেবার ওপরও বাড়ছে চাপ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সান্ত মার্তি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য ১৫টি ‘ট্রানজিশনাল’ আবাসন চালু করা হয়েছে, যাতে তারা ধীরে ধীরে স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
বার্সেলোনার এই চিত্র আবারও দেখাচ্ছে—আবাসন হারানোর সংকট শুধু একটি পরিবারের ছাদ হারানোর ঘটনা নয়; এর সবচেয়ে বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ছে শিশুদের জীবনেও।