রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে দিন-রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে মাদক, অবৈধ অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ৩৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের বিভিন্ন ক্রাইম বিভাগ ও বিশেষায়িত ইউনিটের সদস্যরা সমন্বিতভাবে এ অভিযান পরিচালনা করেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের শনাক্ত করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। সেখানে ১২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তেজগাঁও বিভাগে ৭০ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৯ জন এবং ওয়ারী বিভাগে ৬২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ ছাড়া গুলশান ও উত্তরা বিভাগে ৪৮ জন করে মোট ৯৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। লালবাগ বিভাগ থেকে ২৯ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৬ কেজি ২৯০ গ্রাম গাঁজা, ১৪৩টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ বোতল ফেনসিডিল এবং ১০ গ্রাম হেরোইন।
এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়। এ ছাড়া মাদক ব্যবসা ও সেবনে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইল ফোন, একটি ইয়াবা সেবনের পাইপ, দুটি ফয়েল পেপার, তিনটি গ্যাস লাইট এবং ২০০টি ইলাস্টিক বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে অবৈধ কারবার থেকে অর্জিত ৮ হাজার ৪০০ টাকা নগদও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের অপরাধের রেকর্ড পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্তও চলবে।
ডিএমপি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।