স্পেনের মাদ্রিদে দমকল ও পুলিশের বারংবার নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে পরিচালিত একটি গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ইউসুফ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম laSexta-র সংগৃহীত নথি অনুযায়ী, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ সালেই দমকল বাহিনী ওই বেসমেন্টে ব্যাটারি রাখা ও চার্জ দেওয়ার বিষয়ে প্রথম অভিযোগ দায়ের করে। স্থানটি শুধুমাত্র গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অনুমোদিত ছিল, সেখানে ইলেকট্রিক বাইসাইকেলের ব্যাটারি রাখা বা চার্জ দেওয়ার কোনো আইনি অনুমতি ছিল না।
ওই সময় মাদ্রিদ মিউনিসিপ্যাল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাটারিগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। সাময়িকভাবে ব্যাটারি সরানো হলেও কয়েক সপ্তাহ পর সেখানে আবারও একই কার্যক্রম শুরু হয়। ১২ জানুয়ারি ২০২৬ পুলিশের পরবর্তী পরিদর্শনে নিয়ম ভঙ্গের বিষয়টি পুনরায় ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে গ্যারেজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ই-বাইক চার্জ ও সংরক্ষণের কার্যক্রম বৈধ করতে একটি আবেদন (Declaración Responsable) জমা দেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে মাদ্রিদ নগর কর্তৃপক্ষ আবেদনটি বাতিল করে এবং গ্যারেজটির কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দেয়।
বন্ধের নির্দেশ অমান্য করে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক গ্যারেজটি বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করে এবং ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ১,০০০ ইউরোর প্রথম শাস্তিমূলক জরিমানা (coercive fine) করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গ্যারেজটি ছিল গোলকধাঁধার মতো জটিল। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই সেখানে বিপুল পরিমাণ ই-বাইক চার্জ দেওয়া হতো, যা নিয়ে বাসিন্দারা আগেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমান—চার্জিং পয়েন্ট বা ব্যাটারির বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত। বর্তমানে পুলিশ আগুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি নিহত ইউসুফ বা অন্য কোনো ডেলিভারি রাইডার ওই স্থানে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে। বারবার প্রশাসনিক নোটিশ, পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং জরিমানা সত্ত্বেও কীভাবে গ্যারেজটি সক্রিয় ছিল—তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।