ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসের উত্তরাঞ্চলে ২৬৭ যাত্রী নিয়ে ফেরি ডুবে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তর সাইপ্রাসের কাইরেনিয়া বন্দরের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
ফেরিটিতে মোট ২৬৭ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ও নিখোঁজদের বাদে ২৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার আগে ফেরিটি অস্বাভাবিকভাবে চলছিল। এফে মাল্টিচি সিএনএন তুর্ককে বলেন, জাহাজটি প্রচণ্ডভাবে দুলছিল। বারবার পানির ওপর উঠে আবার সজোরে নিচে আছড়ে পড়ছিল।
তার ভাষ্য, দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট পর ফেরিটি হঠাৎ অনেকটা ওপরে উঠে যায় এবং পরে বিকট শব্দে পানিতে আছড়ে পড়ে। এরপর তারা দেখতে পান, জাহাজটির সামনের বাম অংশ ফেটে গেছে এবং সেখান দিয়ে পানি ঢুকতে শুরু করেছে।
দুই-মাস্তুলবিশিষ্ট ফেরিটিতে আটজন নাবিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জাহাজটির ক্যাপ্টেনসহ সাতজন নাবিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
কাইরেনিয়ার উপকূলের কাছেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই এলাকায় তুরস্কের সঙ্গে উত্তর সাইপ্রাসের সরাসরি যোগাযোগের জন্য কয়েকটি শাটল সামুদ্রিক পরিষেবা চালু রয়েছে।
রোববার বিকেলের মধ্যে ফেরিটি পুরোপুরি ডুবে যায়। বর্তমানে জাহাজটি সমুদ্রের প্রায় ৫১৪ মিটার বা ১ হাজার ৬৮৬ ফুট গভীরে রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তুরস্কের ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পর কাইরেনিয়ার একটি স্থানীয় হাসপাতাল ও বন্দরের প্রবেশপথের বাইরে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। তারা নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে অপেক্ষা করতে থাকেন। দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তুর্কি সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট তুফান এরহুরমান।
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, লাল লাইফ জ্যাকেট পরা যাত্রীরা উল্টে যাওয়া জাহাজটির ওপর বসে বা দাঁড়িয়ে আছেন। তাদের তীরে ফিরিয়ে আনতে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি ব্যক্তিগত নৌযানও সহায়তা করছে।
সংকট ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এরহুরমান বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকবে।
১৯৭৪ সালের এক অভ্যুত্থানের পর সাইপ্রাস উত্তর ও দক্ষিণ—দুই ভাগে বিভক্ত হয়। দক্ষিণ সাইপ্রাস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য। অন্যদিকে, উত্তর সাইপ্রাসকে তুরস্ক ছাড়া অন্য কোনো দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। অঞ্চলটি তুর্কি সাইপ্রাস নামেও পরিচিত।
সূত্র: রয়টার্স