যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ফের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মহসেন রেজাই বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও তীব্র সংঘাতের দিকে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়লে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘নরকে পাঠানোর’ হুমকি দিয়েছেন রেজাই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবির বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আল-মানারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি রেজাই এসব মন্তব্য করেন।
রেজাই দাবি করেন, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের অবসানকে আরও কাছে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছেলেকে হত্যার কথিত ‘ইরানি পরিকল্পনা’ নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।
রেজাইয়ের ভাষ্য, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্রের খবর ছড়িয়ে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আতঙ্কিত করেছেন এবং তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটিয়েছেন। এমনকি ওই খবরের কারণে ট্রাম্প ‘ফুড ট্রাকের কর্মচারীর মতো’ এদিক-সেদিক ঘুরে বেড়িয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
লেবানন ঘিরে নতুন সংঘাতের হুঁশিয়ারি
ইসরায়েলের সঙ্গে ফের সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে নতুন পর্যায়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন রেজাই।
তিনি বলেন, ইরান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। লেবাননের দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলকে সরে যেতে বাধ্য করা হবে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরান আগের যুদ্ধের তুলনায় ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রেজাই বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধ আগের যুদ্ধগুলোর চেয়ে আলাদা হবে এবং ইরান এর জন্য নতুন পর্যায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে হামলার হুমকি
তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন রেজাই। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়ালে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে জবাব দেবে ইরান।
রেজাইয়ের দাবি, সামরিক হামলার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের ওপর নির্ভর করা তাদের সামরিক পদক্ষেপের ব্যর্থতার প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক উত্তেজনা বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টার জবাবে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থে আঘাত হানা হবে।
রেজাই সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রাখার অর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও তীব্র মুখোমুখি সংঘাতে জড়িয়ে পড়া।
তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়ে ইরান ৮ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে। তবে অবরোধ অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থকে ‘শতভাগ তীব্রতা ও শক্তি’ দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।