মঙ্গলবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় তার পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ওলির পদত্যাগের ঘোষণা আসে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন শহরে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে। সোমবার পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত এবং ৪০০-র বেশি যুবক আহত হওয়ার পর থেকেই আন্দোলন আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিক্ষোভকারীরা পার্লামেন্ট ভবন, শীর্ষ নেতাদের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়।
ওলি জুলাই ২০২৪ থেকে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, নেপালি কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠন করেছিলেন তিনি। তবে রক্তক্ষয়ী দমন অভিযানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে চাপ ক্রমশ বাড়তে থাকে। মানবাধিকার সংগঠন ও বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছিলেন ওলির প্রশাসন।
এর আগে তিনি ২০১৫–১৬, ২০১৮–২১, সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দায়িত্বে ছিলেন। দৃঢ় রাজনৈতিক অবস্থান ও জাতীয়তাবাদী নীতির জন্য পরিচিত ওলি প্রথমে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তীব্র বিক্ষোভ, অস্থিরতা এবং স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগের মুখে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলেন।
পদত্যাগের পরও মঙ্গলবার রাজধানী কাঠমান্ডু ও দেশের অন্যান্য শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছে, ব্যবস্থাগত সংস্কার ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।