বিবিসি বাংলা এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। তবে বর্তমান আইনি ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে তাঁর এই ইচ্ছে বাস্তবে রূপ নেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে চরম সংশয় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আইনি ও বিচারাধীন প্রতিবন্ধকতা
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল: গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যান্ডার মামলায় ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বিচার প্রক্রিয়ায় বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকায় দেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর মুখোমুখি হতে হবে।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও আত্মসমর্পণ: তিনি নিজেই আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আভাস দিলেও, বাংলাদেশে তাঁর উপস্থিতির সাথে সাথে তিনি বিচারাধীন আসামি হিসেবে হেফাজতে চলে যাবেন।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও হস্তান্তরের সমীকরণ
দ্বিপক্ষীয় চুক্তির জটিলতা: ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে কৌশলগত কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করছে।
ঢাকার অবস্থান: পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও বর্তমান সরকার ভারতকে বারবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে আসছে। ফলে দিল্লি সফর বা কূটনৈতিক টেবিলে এ নিয়ে বেশ চাপ বজায় রাখছে বাংলাদেশ।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার ঝুঁকি
জনমত ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া: দেশের মাঠে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতায় নিষেধাজ্ঞা এবং দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর চলা আইনি ব্যবস্থার কারণে শেখ হাসিনার পক্ষে স্বাধীন বা স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফেরা প্রায় অসম্ভব।
নিরাপত্তা শঙ্কা: দেশে ফেরার চেষ্টা করা হলে তা বড় ধরণের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত অনুযায়ী, এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য মূলত দলের নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে এবং মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বিস্তার করতেই দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের বর্তমান আইনি, প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় ডিসেম্বরের মধ্যে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন এক বিশাল অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে