অর্থপাচার ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধে নতুন বিধান কার্যকর করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ জুলাই থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোতে বাণিজ্যিক লেনদেনে নগদ অর্থ প্রদানের সর্বোচ্চ সীমা হবে ১০ হাজার ইউরো।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল ইকোনোমিস্টা-র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রেগুলেশন (ইইউ) ২০২৪/১৬২৪ অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্র ১০ হাজার ইউরোর বেশি মূল্যের নগদ বাণিজ্যিক লেনদেনের অনুমতি দিতে পারবে না।
তবে নতুন এই সীমাকে সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, কোনো সদস্য রাষ্ট্র চাইলে নিজস্ব জাতীয় আইনে এর চেয়েও কম সীমা নির্ধারণ বা বহাল রাখতে পারবে।
পর্তুগালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে। দেশটিতে নগদ অর্থ প্রদানের সাধারণ সীমা ৩ হাজার ইউরো, যা ইইউর নির্ধারিত ১০ হাজার ইউরোর সর্বোচ্চ সীমার তুলনায় অনেক কম। ফলে নতুন ইউরোপীয় বিধান কার্যকর হলেও পর্তুগালের বর্তমান জাতীয় নিয়ম অপরিবর্তিত থাকবে।
এরই মধ্যে স্পেনে নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। দেশটির ২০২১ সালের কর ফাঁকি প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের মধ্যে নগদ লেনদেনের সীমা বর্তমানে ১ হাজার ইউরো। ফলে ২০২৭ সালে ইইউর ১০ হাজার ইউরোর সীমা কার্যকর হলেও স্পেনের বিদ্যমান বিধানে কোনো পরিবর্তন আসবে না।
কারা এই সীমার আওতায় থাকবেন
নতুন বিধানটি মূলত বাণিজ্যিক ও পেশাগত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। পেশাগত বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই—এমন ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি অর্থ লেনদেন এই সীমার আওতায় পড়বে না। একইভাবে ব্যাংক বা অন্যান্য অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা অর্থপ্রদানও এই নগদ সীমার বিধানের আওতায় পড়বে না।
নতুন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আর্থিক সম্পদের ওপর নজরদারি বাড়ানো। এর আওতায় ব্যক্তিগত সেফ-ডিপোজিট বক্স, ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত মালিকানা বা ধারকদের তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীভূত রেজিস্টার তৈরির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অর্থপাচার ও অন্যান্য অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করা।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল ইউরো চালুর পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। তবে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিজিটাল ইউরো চালু হলেও এটি নগদ অর্থের বিকল্প হিসেবে নগদকে পুরোপুরি সরিয়ে দেবে না।
বরং ডিজিটাল ইউরো ও নগদ অর্থ পাশাপাশি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। ডিজিটাল মুদ্রার লক্ষ্য হবে দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ তৈরি করা।
নতুন নগদ লেনদেনের সীমা এবং অর্থপাচারবিরোধী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, অবৈধ অর্থপ্রবাহ শনাক্ত করা এবং অর্থপাচারের বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থা জোরদার করা।