দেশের ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর সুবিধা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দিতে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অবসর সুবিধা বোর্ড ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের পাওনা পরিশোধে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা নিয়ে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে। ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে অবসর সুবিধা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগকে দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. মিলন জানান, বর্তমানে কল্যাণ ট্রাস্টের আওতায় একজন শিক্ষক সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাচ্ছেন। তবে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতার বাকি অর্থ একবারে নয়, পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকারের সময়ে এ খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে আটটি ব্যাংকে রাখা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে সরকারি ব্যাংকগুলোতে থাকা কিছু অর্থ উদ্ধারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের কাছ থেকে পাওয়া ৬ শতাংশ ও ৪ শতাংশ অনুদান এবং প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বন্ডসহ কল্যাণ ট্রাস্টের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। এসব সম্পদ থেকে অর্জিত আয় কাজে লাগিয়ে শিক্ষকদের বকেয়া সুবিধা পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে অবশিষ্ট পাওনাও পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আজ যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এর ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে সকল শিক্ষকের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবসরের সময় শুধু আনুষ্ঠানিক বিদায় বা সামান্য উপহার দিয়ে তাঁদের প্রতি দায়িত্ব শেষ করা যায় না। শিক্ষকদের সম্মান ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বেসরকারি শিক্ষকদের সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা খাতের উন্নয়নে সরকার বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কারিগরি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া, কারিগরি শিক্ষা মেলার আয়োজনসহ অসম্পন্ন বিভিন্ন কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।
শিক্ষকদের সম্মাননা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কাজ করে যাবে।