বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ ব্যবহারের পাশাপাশি সুসম্পর্ক প্রত্যাশা করে, তবে সে দুটি বিষয় পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে তা হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে। শেখ হাসিনাকে সেখানে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা দুটি বিষয় একসঙ্গে চলতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত কোনো সাবেক স্বৈরশাসককে ভারতে আশ্রয় দিয়ে সে দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে কথা বলতে দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য জানিয়েছে, সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর দেওয়া বক্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না। তবে একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের তীব্র আপত্তি রয়েছে।
২৪-এর আন্দোলন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল ৩৬ দিনের হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ১৭ বছরের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফল। এই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়, বরং তা জনগণের ভোটাধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যৌথ লড়াই।
রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের উসকানিমূলক ফাঁদে না পড়ার অনুরোধ করেন। এছাড়া তিনি মনে করিয়ে দেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা ১০৬ অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে আরও সুসংহত করা সম্ভব।